শুক্রবার ৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, ১৭ মহররম ১৪৪৮
DristyTV

নব্বই ছুঁইছুঁই জয়গুন বেওয়ার ঘরে প্রতিমন্ত্রীর উপহার

অসহায় মায়ের পাশে রাষ্ট্র

D
Dristy TVপ্রকাশ: ৩ জুলাই, ২০২৬ দুপুর ০১:২৬
নব্বই ছুঁইছুঁই জয়গুন বেওয়ার ঘরে প্রতিমন্ত্রীর উপহার

দৃষ্টি রিপোর্ট:

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর, দৃষ্টিও ঝাপসা। স্বামী রাজ আলী পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে। চার ছেলে ও তিন মেয়ের জননী হলেও জীবনের শেষ বিকালে এসে নিদারুণ একাকীত্ব আর চরম অভাবের মুখোমুখি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কোনাবাড়ী এলাকার জয়গুন বেওয়া। প্রায় ৯০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধার জীবন কাটছিল চরম মানবেতর অবস্থায়। তবে অবশেষে এ খবর জানতে পেরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপির মানবিক উদ্যোগে দূর হলো তার দীর্ঘদিনের অসহায়ত্ব, বৃদ্ধার মুখে ফুটল স্বস্তির হাসি।

জানা যায়, জয়গুন বেওয়ার সন্তানরা যার যার আলাদা সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তারাও এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ এবং আর্থিকভাবে চরম অসচ্ছল। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর এই সংসারে বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসা ও দেখভালের দায়িত্ব নেওয়া তাদের জন্য হয়ে উঠেছিল এক বড় মানসিক ও আর্থিক বোঝা। এরই মধ্যে সম্প্রতি তার বড় ছেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষররণ শয্যাশায়ী হওয়ায় পরিবারটির ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। হাঁটাচলা বন্ধ হওয়া জয়গুন বেওয়ার দিন কাটছিল অনাহারে-অর্ধাহারে, এক বুক নীরব কান্না বুকে চেপে। সমাজ ও সংসারের এই অবহেলার বৃত্তে বন্দি থাকা জয়গুন বেওয়ার দুর্দশার খবরটি পৌঁছায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কান পর্যন্ত। স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে খবরটি জানার পর প্রতিমন্ত্রী বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেননি। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীন মিয়াকে নির্দেশ দেন বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে সোমবার (২২ জুন) দুপুরে কোনাবাড়ী এলাকায় জয়গুন বেওয়ার জীর্ণ কুটিরে সরেজমিনে হাজির হন ইউএনও শাহীন মিয়া। তিনি বৃদ্ধার শয্যাপাশে বসেন, পরম মমতায় তার শারীরিক অবস্থা ও পারিবারিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পরিবারের এই চরম বিপর্যয়কর অবস্থা বিবেচনা করে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে জয়গুন বেওয়ার হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং দুই প্যাকেট জরুরি খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে তার চিকিৎসা ও দেখভালের জন্য আরও বড় ধরনের সরকারি সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়।

জীবনের শেষ সময়ে এসে এমন অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা ও রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পেয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি বৃদ্ধা জয়গুন বেওয়া। পরম মমতায় হাত উঁচিয়ে তিনি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং প্রশাসনের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া বলেন, ‘মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই অসহায় মায়ের পাশে দাঁড়িয়েছি। কোনো নাগরিক যেন এভাবে মানবেতর জীবনযাপন না করেন, সে বিষয়ে আমাদের প্রশাসন সদা তৎপর। জয়গুন বেওয়ার পরিবারের পাশে আমরা ভবিষ্যতেও থাকব।’ একবিংশ শতাব্দীর এই ব্যস্ত সময়ে জয়গুন বেওয়ার পাশে প্রতিমন্ত্রীর এই মানবিক সাড়া যেন প্রমাণ করল- পৃথিবীতে এখনো ফুরিয়ে যায়নি মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসা।

এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সুখ-দুঃখের খবর রাখা আমার দায়িত্ব। কোনো অসহায় মানুষ যেন চিকিৎসা, খাদ্য বা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন- সেটি নিশ্চিত করতে আমি সবসময় চেষ্টা করে যাচ্ছি। এছাড়া প্রশাসনকেও মানবিকভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।