তেল সংগ্রহে ছুটির দিনেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন

জ্বালানি তেল সংকটে দেশের বিভিন্ন স্থানে চরম ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনেও রাজধানীসহ সারাদেশের মহাসড়ক ও জেলা শহরের পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না গ্রাহকরা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে সবচেয়ে তীব্র চিত্র দেখা গেছে। সিদ্ধিরগঞ্জ ও কাঁচপুর এলাকায় অধিকাংশ পাম্পে অকটেন বিক্রি বন্ধ রয়েছে। কোনো কোনো পাম্পে টানা দুই সপ্তাহ ধরেও অকটেন নেই। সীমিত পরিসরে শুধু ডিজেল বিক্রি চলছে। ফলে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকরা এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
রাজধানীতেও একই অবস্থা। বিজয় সরণি, আসাদগেট ও মিরপুর এলাকার বিভিন্ন পাম্পে সকাল থেকেই লম্বা সারি দেখা যায়। অনেক পাম্পে নির্দিষ্ট সময়ের আগে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়, আবার নির্ধারিত সময়েও সরবরাহ সীমিত থাকায় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেককে ফিরতে হচ্ছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হুহু করে বাড়তে থাকে। বিশেষ করে, জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালির চলাচল নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম শত ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বেড়েছে তরলকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম। ইরান আক্রমণের পর গত এক মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩১ শতাংশ এবং এলএনজির দাম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাংলাদেশে। কারণ, বাংলাদেশ জ্বালানি তেল এবং এলএনজি দুটোই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনে।
খুলনা, দিনাজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় পরিস্থিতি আরও নাজুক আকার ধারণ করেছে। কোথাও ‘তেল নেই’ লিখে পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও সীমিত সরবরাহে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে তেল না পেয়ে উত্তেজিত জনতার হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
ভোগান্তির চিত্র সবচেয়ে করুণ হয়ে ওঠে দিনাজপুরে, যেখানে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে এক মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।
পাম্প মালিকরা বলছেন, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও চাহিদার তুলনায় কম থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ঘিরে আতঙ্কে অনেকেই প্রয়োজনের বেশি তেল কিনে মজুত করছেন, ফলে চাপ আরও বেড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই অরাজকতা আরও বাড়বে এবং জ
