সব শক্তির বড় শক্তি ‘ইচ্ছাশক্তি’

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল::
মহাবিশ্বের জন্মলগ্ন থেকে আজ অবধি মানুষ শক্তির নানামুখী রূপ দেখেছে। এসব দৃশ্যমান চালিকাশক্তির পেছনে যে অদৃশ্য, অবিনশ্বর এবং মহত্তম শক্তিটি কাজ করে- তা হলো মানুষের ‘ইচ্ছাশক্তি’। ইচ্ছাশক্তি হলো মানবাত্মার সেই অভ্যন্তরীণ স্ফুলিঙ্গ- যা প্রতিকূলতার নিকষ অন্ধকারকে ভেঙে সাফল্যের আলো জ্বেলে দেয়। পৃথিবীতে সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, অস্ত্রের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু মানুষের সৎ ও সুদৃঢ় ইচ্ছার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। তাই তো বলা হয়- মহাবিশ্বের সব শক্তির বড় শক্তি ইচ্ছাশক্তি। পৃথিবীতে মানব সভ্যতার বিকাশ, উত্থান এবং বিজয়ের পেছনে যে চালিকাশক্তিটি সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে- তা হলো মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি। আদিম গুহাবাসী মানুষ থেকে শুরু করে আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ জয়ের যুগে মানুষের শারীরিক বা বস্তুগত সীমাবদ্ধতা অনেক ছিল। কিন্তু মানুষ তার ভেতরের এক অদৃশ্য, অবিনশ্বর শক্তির জোরে জয় করেছে জল-স্থল আর অন্তরীক্ষ। সেই আদিমকাল থেকে আজ অবধি একটি চিরন্তন সত্য বারবার প্রমাণিত হয়েছে- জগতের সব শক্তির চেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের ভেতরের ‘ইচ্ছাশক্তি’।
বিশ্বের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখক, দার্শনিক ও চিন্তাবিদরা যুগে যুগে ইচ্ছাশক্তির এই অপার মহিমাকে তাদের লেখনিতে তুলে ধরেছেন। ফরাসি ঔপন্যাসিক ভিক্টর হুগো মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে বলেছেন, ভেতরের ইচ্ছের প্রদীপটি নিভে না গেলে বাহ্যিক কোনো প্রতিকূলতাই মানুষকে থামাতে পারে না। জার্মান দার্শনিক ফ্রিডরিশ নিটশে তার ‘দ্যা উইল টু পাওয়ার’ (The Will to Power) ধারণায় দেখিয়েছেন, জগতের সমস্ত চালিকাশক্তির মূলে রয়েছে এক প্রবল ইচ্ছাবোধ। মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ অধিকার আন্দোলনের পুরোধা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বলেছিলেন, ‘যদি তুমি উড়তে না পারো তবে দৌড়াও, যদি দৌড়াতে না পারো তবে হাঁটো, যদি হাঁটতে না পারো তবে হামাগুড়ি দাও; কিন্তু তোমাকে সামনে এগিয়ে যেতেই হবে।’- এই এগিয়ে যাওয়ার নিরন্তর তাগিদটাই হলো ইচ্ছাশক্তি। মহাত্মা গান্ধী ইচ্ছাশক্তিকে শারীরিক বা সামরিক শক্তির চেয়ে অনেক ওপরে স্থান দিয়ে বলেছেন, ‘শক্তি শারীরিক সামর্থ্য থেকে আসে না। এটি আসে একটি অদম্য ইচ্ছাশক্তি থেকে।’ পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনও মনে করতেন, ‘ইচ্ছাশক্তি হলো এমন একটি চালিকাশক্তি যা বাষ্প, বিদ্যুৎ এবং পারমাণবিক শক্তির চেয়েও শক্তিশালী।’
ইচ্ছাশক্তির জোর বোঝাতে প্রকৃতি ও ইতিহাসের চেয়ে বড় কোনো উপমা হতে পারে না। একটি ছোট্ট বীজ যখন পাথরের বুক চিরে অংকুরিত হয়ে বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়- তখন সেই পাথরের কাঠিন্য হেরে যায় বীজের ভেতরের লুকিয়ে থাকা প্রবল জীবন-ইচ্ছার কাছে। পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা ঝরনাধারা প্রমাণ করে- অবিচল লক্ষ্য আর বয়ে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলে কঠিন পাথরও পথ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ব্যক্তি জীবনেও আপনি যদি কোনো গুরুতর সমস্যায় পড়েন, দেখবেন বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের ওষুধের চেয়ে পরামর্শ বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। আবার বিশেষজ্ঞ-ডাক্তার-ওষুধের পরও যদি আপনার মন দুর্বল থাকে, তাহলে সমস্যা উৎরানো কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ মানসিকভাবে যদি আপনি ভাবেন এ সমস্যাটা আপনার জন্য কিছুইনা, এরচেয়ে অনেক বড় বড় সমস্যা সমাধান করেছেন- এটা তো নস্যি। দেখা যায়- সমস্যাটা আর সমস্যা থাকেনা, কাজে পরিনত হয় এবং সমাধান হয়ে যায়। ইতিহাসের পাতায় তাকালে আমরা দেখি নেলসন ম্যান্ডেলাকে। সাতাশ বছরের দীর্ঘ কারাবাস, বর্ণবাদী সরকারের নির্মম নির্যাতন- কোনো কিছুই তার ভেতরের মুক্তিকামী ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। রবেন দ্বীপের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বসেও তিনি যে স্বপ্নের বীজ বুনেছিলেন, তার ইচ্ছাশক্তির জোরেই তা একদিন দক্ষিণ আফ্রিকার আকাশে স্বাধীনতার সূর্য হয়ে উদিত হয়েছিল। আমরা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের কথাই যদি ধরি, টমাস আলভা এডিসন হাজার বার ব্যর্থ হয়েও বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করেছিলেন। তার এই হাজার বার ব্যর্থতাকে হারিয়ে দিয়েছিল তার একক ইচ্ছাশক্তি। একইভাবে, শারীরিক পক্ষাঘাতগ্রস্ততা সত্ত্বেও স্টিফেন হকিং মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচন করেছেন কেবল তার মস্তিষ্কের অদম্য ইচ্ছার জোরে।
বাঙালি জাতির ইতিহাসে ইচ্ছাশক্তির সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ও রক্তস্নাত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে। তৎকালীন সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ছিল আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত, সুপ্রশিক্ষিত এবং সংখ্যায় বিশাল। তাদের বিপরীতে বাংলার সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক আর ছাত্রসমাজ ছিল প্রায় নিরস্ত্র। সামরিক শক্তির সেই চরম অসন্তুলনের মাঝেও বাঙালি যে একটি সুসজ্জিত নিয়মিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছিল, তার একমাত্র জ্বালানি ছিল- স্বাধীনতার তীব্র ইচ্ছাশক্তি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো’ এবং ‘আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবা না’- এই অমোঘ বজ্রবাণী মূলত কোটি বাঙালির অবদমিত ইচ্ছাশক্তিকে এক লহমায় জাগিয়ে তুলেছিল। থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল, বাঁশের লাঠি আর অকুতোভয় বুক নিয়ে এ দেশের দামাল ছেলেরা যখন পাকিস্তানি আধুনিক ট্যাঙ্কের সামনে দাঁড়িয়েছিল, তখন বস্তুগত শক্তি পরাজিত হয়েছিল মানসিক শক্তির কাছে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ আর ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা প্রমাণ করে- পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার অদম্য ইচ্ছার কাছে পৃথিবীর যেকোনো আধুনিক ও নিষ্ঠুর মেলেটারি ফোর্সও নতিস্বীকার করতে বাধ্য।
একাত্তরের সেই অবিনাশী ইচ্ছাশক্তির এক অভূতপূর্ব পুনরাবৃত্তি ও পুনর্জাগরণ আমরা দেখতে পেয়েছি ১৯৯০ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, রাষ্ট্রীয় শাসনযন্ত্রের নিপীড়ন, দুর্নীতি এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে যখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া অবস্থায় রাস্তায় নেমে এসেছিল- তখন এক নতুন ইতিহাস রচিত হয়। ২০২৪-এর এই আন্দোলন কেবল একটি কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি রূপ নিয়েছিল রাষ্ট্র সংস্কার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক ইস্পাতকঠিন গণদাবিতে। রাষ্ট্রশক্তির বন্দুকের নল, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল আর শত শত প্রাণের আত্মদানও দমাতে পারেনি তরুণ প্রজন্মের সেই অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে। আবু সাইদ যখন বুক পেতে রাষ্ট্রযন্ত্রের বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন সেই দৃশ্যটি হয়ে উঠেছিল অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক কালজয়ী প্রতীক। বন্দুকের গুলি যেখানে তরুণদের ঘরে ফিরিয়ে দিতে পারেনি, সেখানেই প্রমাণিত হয়েছে- পেশীশক্তি বা অস্ত্রের চেয়ে মানুষের ন্যায়বিচারের আকাক্সক্ষা ও ইচ্ছাশক্তি কতখানি শক্তিশালী। সাধারণ নাগরিক, নারী, শিশু এবং আপামর শ্রমজীবী মানুষের এই অভূতপূর্ব স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সম্মিলিত ইচ্ছার জোয়ারে একটি দীর্ঘমেয়াদী স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতন ঘটে। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান বিশ্ববাসীকে টেক্সটবুক উদাহরণের মতো দেখিয়ে দেয়- একটি জাতির সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তি জাগ্রত হলে যেকোনো স্বৈরশাসন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে বাধ্য।
আজকের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যখন আমরা বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করি, তখন এই ইচ্ছাশক্তির প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সময়ে আমরা এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। সমাজ এখন এক নতুন উদ্দীপনা, রাষ্ট্র সংস্কারের আকাক্সক্ষা, একই সাথে এক ধরণের অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তরুণ সমাজ আজ যে ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছে, তা বাস্তবায়নে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সামষ্টিক ও সুদৃঢ় ইচ্ছাশক্তি। সামাজিক অবক্ষয়, মাদক, সাইবার অপরাধ এবং দীর্ঘদিনের জঞ্জাল দূর করতে কোনো আইন বা জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া নিয়ম ততটা কাজ করবে না, যতটা কাজ করবে মানুষের ভেতর থেকে জেগে ওঠা শুদ্ধ সামাজিক চেতনা ও পরিবর্তনের তীব্র ইচ্ছা। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে আজ ক্ষমতার দ্ব›দ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ আর অর্থনৈতিক মন্দার কালো মেঘ। এই পরিস্থিতিতে আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ‘রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইচ্ছাশক্তি’ (Political and Administrative Will)। দুর্নীতিমুক্ত, সমতাভিত্তিক এবং বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের যে অঙ্গীকার ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তি ক্ষমতাসীন হয়েছে- তা ধরে রাখতে হলে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সততা এবং দেশপ্রেমের ইচ্ছাশক্তিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান- আমাদের জাতীয় ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকবদলের মূল হাতিয়ারই ছিল এই সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তি।
ইচ্ছাশক্তি হলো মানুষের মনের সেই জাদুকরী আলো- যা অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষপ্রান্তেও আশার পথ দেখায়। বাহ্যিক সম্পদ, অর্থ বা পেশীশক্তি সাময়িক জয় এনে দিতে পারে, কিন্তু চিরস্থায়ী পরিবর্তন ও ইতিহাসের পাতায় স্থায়ী আসন কেবল ইচ্ছাশক্তির জোরেই অর্জন করা সম্ভব। কবি কৃষ্ণ চন্দ্র মজুমদার যথার্থই লিখেছিলেন, ‘যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি, আশুগৃহে তার দেখিবে না আর নিশীথে প্রদীপ ভাতি।’ অর্থাৎ, শক্তির সঠিক ব্যবহার ও ভেতরের সদিচ্ছাই মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে। আবার কবি কালীপ্রসন্ন ঘোষের সেই অমর বাণী আজো আমাদের কানে অনুরণিত হয়- ‘পারিব না এ কথাটি বলিও না আর/কেন পারিব না তাহা ভাব একবার...’ ব্যক্তিগত জীবনের হতাশা, সামাজিক অবক্ষয় আর রাজনৈতিক অস্থিরতার এই ক্রান্তিকালে আমাদের নতুন করে ইচ্ছাশক্তির চর্চা করতে হবে। সকল নেতিবাচকতাকে পেছনে ফেলে, আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে ‘আমি পারব, আমাদের পারতেই হবে’- এই মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার। কারণ, পৃথিবীতে সাম্রাজ্যের পতন ঘটে, প্রযুক্তির সংস্কার হয়, কিন্তু মানুষের অজেয় ইচ্ছাশক্তি চিরকাল অপরাজেয় ও অমর হয়ে থাকে। তাই ৭১-এর চেতনা আর ২৪-এর রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানের উত্তরাধিকারী হিসেবে আমাদের ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত এই অদম্য ইচ্ছাশক্তির চাষ করতে হবে। কারণ, ইচ্ছা যেখানে বলবান, পথ সেখানে উন্মুক্ত হতে বাধ্য। সব শক্তির সেরা শক্তি এই ইচ্ছাশক্তিকে বুকে ধারণ করেই বাঙালি জাতিকে এগিয়ে যেতে হবে এক বৈষম্যহীন, সাম্যবাদী ও আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে।
ঠিকানা: জেলা সদর রোড, বটতলা, টাঙ্গাইল-১৯০০
ইমেইল: dristytvnews@gmail.com


