বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩, ১৪ সফর ১৪৪৮
DristyTV

আলি ব্রাদার্স থেকে সিদ্দিকী ব্রাদার্স

ইতিহাসের বাঁক বদলানো দুই যুগলবন্দী

D
Dristy TVপ্রকাশ: ৩০ জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫
আলি ব্রাদার্স থেকে সিদ্দিকী ব্রাদার্স

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল::

ভারতবর্ষ ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘ভ্রাতৃদ্বয়’ বা ‘ব্রাদার্স’ পরিভাষাটি যখনই উচ্চারিত হয়, তা কেবল রক্ত সম্পর্কিত দুই ভাইয়ের পরিচয় বহন করে না। তা হয়ে ওঠে শোষণের বিরুদ্ধে এক সুসংগঠিত শক্তির প্রতীক, মুক্তির মিছিলে শামিল দুই নির্ভীক সেনানীর যৌথ লড়াইয়ের আখ্যান। বিশ শতকের ২০-এর দশকে অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতে ‘আলি ব্রাদার্স’ এবং ৭০-এর দশকে উত্তাল বাংলাদেশে টাঙ্গাইলের ‘সিদ্দিকী ব্রাদার্স’- উভয় পরিবারই আপন আপন সময়কালে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছিলেন। স্থান-কালের ব্যবধান থাকলেও এই দুই কিংবদন্তি ভ্রাতৃদ্বয়ের রাজনৈতিক দর্শন, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং আদর্শিক চেতনার মাঝে এক অভূতপূর্ব মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

মাওলানা মুহাম্মদ আলি জওহর ও মাওলানা শওকত আলি উচ্চ শিক্ষিত ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতা। দুজনেই খিলাফত আন্দোলনের মূল নেতৃবৃন্দের অন্যতম ছিলেন। মুহাম্মদ আলি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রেসিডেন্টও হয়েছিলেন। তারা আজীবন দেশের স্বাধীনতার জন্য ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন- যা ইতিহাসে ‘আলি ভ্রাতৃদ্বয়’ বা ‘আলি ব্রাদার্স’ নামে পরিচিত। ভারতের উত্তরপ্রদেশের রামপুরের এক উচ্চবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া এই দুই ভাইয়ের (মাওলানা মুহাম্মদ আলি জওহর ও মাওলানা শওকত আলি) শিক্ষা ছিল অক্সফোর্ড ও আলিগড়ের আধুনিকতায় সমৃদ্ধ। কিন্তু তাদের হৃদয়ে ছিল পরাধীনতার গভীর ক্ষত। মাওলানা মুহাম্মদ আলী জওহর যখন ১৯১১ সালে ইংরেজি সাপ্তাহিক ‘কমরেড’ (ঞযব ঈড়সৎধফব) ও উর্দু সাপ্তাহিক ‘হামদর্দ’ প্রকাশ করা শুরু করেন তখনই ব্রিটিশ শাসনের ভিত নড়বড়ে হতে শুরু করে। আলি ব্রাদার্স যখন অবিভক্ত ভারতের রাজনীতিতে আবির্ভূত হন তখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর এক চরম সংকটকাল চলছে। ১৯১৯ সালে তুরস্কের খিলাফত ও সা¤্রাজ্য রক্ষার্থে এবং ভারতীয় মুসলমানদের অধিকার আদায়ে তারা ‘খিলাফত আন্দোলন’ শুরু করেন। এটি ছিল ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যবাদের ভিত্তিমূলে প্রথম তীব্র আঘাত। মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে খিলাফত আন্দোলনের মেলবন্ধন ঘটিয়ে আলি ব্রাদার্স গোটা উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক অভূতপূর্ব জোয়ার সৃষ্টি করেছিলেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের এক বাঙালি মুসলিম পরিবার থেকে উঠে আসা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকীর রক্তে ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের জোয়ার। ষাটের দশকের উত্তাল দিনগুলোতে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তারা যখন রাজপথে নামেন, তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল টাঙ্গাইলের মাটি থেকে এক নতুন বিদ্রোহের জন্ম হতে যাচ্ছে। সিদ্দিকী ব্রাদার্স (আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম) যখন বাংলার রাজনীতিতে অবতীর্ণ হন, তখন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দুই দশকের শোষণ ও বঞ্চনা চরম সীমায় পৌঁছেছে। ১৯৭০-এর নির্বাচন-উত্তর রাজনৈতিক (ঢ়ড়ষরঃরপধষ) সংকট এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির পর এই দুই ভাই প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা লতিফ সিদ্দিকী ছিলেন রাজনৈতিক ফ্রন্টের অগ্রনায়ক এবং প্রবাসী সরকারের অন্যতম সংগঠক। আর কনিষ্ঠ ভ্রাতা কাদের সিদ্দিকী গড়ে তোলেন কিংবদন্তিতুল্য ‘কাদেরিয়া বাহিনী’। ১৭ হাজার নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রায় ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের এই বাহিনী টাঙ্গাইলসহ আশপাশের ৯-১০টি জেলার বিশাল অঞ্চলকে কার্যত মুক্তাঞ্চলে পরিণত করেছিল।

BeHptiYThOMlebSRvfRhzpX7LaC6n8eddWf737Gl.jpg

আলি ব্রাদার্সের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ও অগ্নিপরীক্ষার অধ্যায় ছিল তাদের দীর্ঘ কারাবাস ও ঐতিহাসিক ‘করাচি ট্রায়াল’ (১৯২১)। ১৯২০-এর দশকে ব্রিটিশ সরকার তাদের উগ্র রাজদ্রোহিতার অভিযোগে বারবার কারারুদ্ধ করে। ১৯২১ সালের জুলাই মাসে খিলাফত কনফারেন্সে মাওলানা মোহাম্মদ আলী জওহর মুসলিম সেনাদের ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ত্যাগ করার আহ্বান জানান। এই একটি ঘোষণায় ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যের ভিত নড়ে ওঠে। এর জের ধরে সেপ্টেম্বর মাসে আলি ব্রাদার্সকে গ্রেপ্তার করে করাচির ঐতিহাসিক ‘খালেকদিনা হলে’ এক বিশেষ সামরিক আদালতে বিচার (কধৎধপযর ঞৎরধষ) শুরু হয়। ব্রিটিশ শাসকরা তাদের রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে দুই বছরের সশ্রম কারাদ- দেয়। কিন্তু কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ আলি ব্রাদার্সকে দমাতে পারেনি বরং তাদের বন্দিত্বের খবর শুনে পুরো ভারতজুড়ে ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। শওকত আলি এবং মোহাম্মদ আলি কারাগারকে বানিয়েছিলেন স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতীক। তাদের মা আবিদা বানু, ইতিহাসে যিনি ‘বি-আম্মা’ নামেই বেশি পরিচিত। মহাত্মা গান্ধী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসসহ তখনকার নেতারা তাকে ‘আম্মা’ সম্বোধন করতেন। তিনি ছিলেন দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাকামী একজন মহীয়সী নারী- যিনি স্বাধীনতার জন্য নিজেকে এবং নিজ সন্তানদের উৎসর্গ করেছিলেন। তার মধ্যে কোনো জাতিভেদ ছিল না। তিনিও রাজপথে নেমে স্লোগান দিয়েছিলেন- ‘বোলি আম্মা মোহাম্মদ আলি কী, জান দে দো খিলাফাত পার’। মহীয়সী নারী ‘বি-আম্মা’র কোলে জন্ম নেওয়া দুই ভাইয়ের দীর্ঘ কারাবাসের ত্যাগই ‘আলি ব্রাদার্স’কে উপমহাদেশের আপসহীনতার সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যায়।

অন্যদিকে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সিদ্দিকী ব্রাদার্সের নেতৃত্বাধীন ‘কাদেরিয়া বাহিনী’ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জন্য এক চরম আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছিল। কাদের সিদ্দিকীকে তারা ‘টাইগার সিদ্দিকী’ বা ‘বাঘা সিদ্দিকী’ নামে ডাকতেন। জ্যেষ্ট ভাই লতিফ সিদ্দিকী যখন ভারতে গিয়ে রাজনৈতিক লবিং ও অস্ত্র সরবরাহের পথ সুগম করছেন, কনিষ্ঠ ভাই কাদের সিদ্দিকী তখন টাঙ্গাইলের বনে-জঙ্গলে থেকে একের পর এক দুঃসাহসিক অপারেশন পরিচালনা করছেন। কাদেরিয়া বাহিনীর সবচেয়ে ঐতিহাসিক অপারেশনটি ছিল ১৯৭১ সালের ১১ আগস্ট বহমান যমুনার ধলেশ্বরী নদীর মোহনায় চালানো ‘জাহাজ বিধ্বংসী অপারেশন’। পাকিস্তানি বাহিনীর বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ নিয়ে ‘এসইউএ ইঞ্জিনিয়ারিং এসটি-৩’ এবং ‘এসটি রাজন’ নামের দুটি বিশাল জাহাজ ঢাকার সদরঘাট থেকে যমুনা হয়ে নদী পথে রংপুরের দিকে যাচ্ছিল। ১৯৭১ সালের ১১ আগস্ট টাঙ্গাইলের কাদেরিয়া বাহিনীর অসম সাহসী যোদ্ধারা কমান্ডার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর মোহনায় পাকিস্তানের অস্ত্র ও রসদ বোঝাই ২টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করে দেয়। ধ্বংসের আগে মুক্তিযোদ্ধারা জাহাজ ২টি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ হস্তগত করে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ঐতিহাসিক এই যুদ্ধ ‘জাহাজমারা যুদ্ধ’ হিসেবে পরিচিত। বলা হয়ে থাকে, মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে দেশের আর কোথাও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা এত বড় ক্ষতির শিকার হয়নি। একইসঙ্গে এই যুদ্ধটিকে মুক্তিযুদ্ধের মোড় ঘোরানো একটি ঘটনা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এটি ছিল নৌ-যুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম সফল গেরিলা অপারেশন। এছাড়া টাঙ্গাইলের ‘ধলাপাড়া অপারেশন’ এবং ‘মাকরকোল যুদ্ধ’-এ কাদেরিয়া বাহিনীর বীরত্বে পাকিস্তানি সেনারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। কাদের সিদ্দিকী নিজে সম্মুখ সমরে থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করতেন এবং একটি অপারেশনে তিনি গুরুতর আহতও হন। লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকীর এই যৌথ শক্তি ও রণকৌশলের কারণেই ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের আগেই টাঙ্গাইলকে কার্যত মুক্তাঞ্চল ঘোষণা করা সম্ভব হয়েছিল এবং মিত্রবাহিনীর প্যারাশুট ল্যান্ডিংয়ের পথ সহজ হয়েছিল।

M71BTPh18cI4fn2SY73WngFQ1nUqrsjGJ7HnU8jB.jpg

একই শতকের দুই ভিন্ন যুগের এই দুই ভ্রাতৃদ্বয়ের ঘটনাক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে তাদের মধ্যে আদর্শিক মিলগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে প্রতিভাত হয়- (ক) যৌথ নেতৃত্বের শক্তি: আলি ব্রাদার্স যেমন একজন অসাধারণ বাগ্মী ও লেখক (মুহাম্মদ আলি) এবং অন্যজন দক্ষ সংগঠক (শওকত আলি) হিসেবে পরিপূরক ছিলেন, সিদ্দিকী ব্রাদার্সও তেমনি। লতিফ সিদ্দিকী ছিলেন তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক দিকপাল, আর কাদের সিদ্দিকী ছিলেন মাঠপর্যায়ের অকুতোভয় যোদ্ধা ও সেনাপতি। (খ) শোষণের বিরুদ্ধে গণজাগরণ: আলি ব্রাদার্স ভারতের কোণায় কোণায় ঘুরে সাধারণ মানুষকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলেছিলেন। একইভাবে সিদ্দিকী ব্রাদার্স টাঙ্গাইলের আপামর জনতাকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ দুর্গ গড়ে তুলেছিলেন। (গ) অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী চেতনা: আলি ব্রাদার্স ধর্মীয় খিলাফত আন্দোলন করলেও তাদের লক্ষ্য ছিল অসাম্প্রদায়িক ও ভারতীয় মুক্তি। তারা গান্ধীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। অন্যদিকে, কাদেরিয়া বাহিনীতে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষ (নারী-পুরুষ) যুদ্ধ করেছে। সিদ্দিকী ব্রাদার্স নিশ্চিত করেছিলেন যে, যুদ্ধকালীন মুক্তাঞ্চলে যেন কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা নিপীড়ন না ঘটে।

খেলাফত আন্দোলনের অবিসংবাদিত বাগ্মী নেতা মোহাম্মদ আলি জওহর ও তার বড় ভাই শওকাত আলি ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবেন। মোহাম্মদ আলি জওহর একাধারে রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, কবি ও পন্ডিত ছিলেন। তিনি ১৮৭৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পরাধীন ভারতে না ফেরার শপথ নিয়েছিলেন এবং বিদেশের(লন্ডনের) মাটিতেই ১৯৩১ সালের ৪ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। তার ইচ্ছানুযায়ী নবীদের পুণ্যভূমি বায়তুল মুকাদ্দাসে তিনি সমাহিত হন। ফিলিস্তিনের তৎকালীন প্রধান মুফতি তার জানাজা পড়িয়েছেন। মোহাম্মদ শওকত আলি ১৮৭৩ সালের ১০ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট দলের অধিনায়কও ছিলেন। ছোট ভাই মুহাম্মদ আলি জওহরের সাথে মিলে তিনি ১৯১৯-১৯২৪ সালের খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৩৬ সালে জীবনের শেষভাগে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৩৮ সালের ২৬ নভেম্বর তিনি দিল্লিতে মৃত্যুবরণ করেন।

ইতিহাসের পাতায় আলি ব্রাদার্স ও সিদ্দিকী ব্রাদার্স চিরকাল শোষিত মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। বিশ শতকের শুরুতে আলি ব্রাদার্স উপমহাদেশে যে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার গান গেয়েছিলেন, সত্তরের দশকে সিদ্দিকী ব্রাদার্স তারই চূড়ান্ত রূপ দেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনে। আলি ব্রাদার্স আজ পরলোকগত। মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৫৭ সালে টাঙ্গাইল জেলা সদরের কাগমারী এলাকায় ‘মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ’ নামে একটি শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করেন। মওলানা ভাসানী খিলাফত আন্দোলনের অন্যতম মহান নেতা মাওলানা মোহাম্মদ আলী জওহরের স্মরণে ও তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে কলেজটির নামকরণ করেছিলেন। খিলাফত আন্দোলনের অন্যতম দিকপাল ‘আলি ব্রাদার্সে’র স্মরণে জন্ম বা মৃত্যু দিবসে আমরা স্মরণসভা কিংবা দিবস পালনের মধ্য দিয়ে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করতে পারি এবং তা অবশ্যই যুক্তিযুক্ত। এই দুই কিংবদন্তি ভ্রাতৃদ্বয়ের ত্যাগ, সাহস এবং রাজনৈতিক দর্শন প্রমাণ করে যখন কোনো পরিবারের রক্ত শোষণের বিরুদ্ধে একীভূত হয়, তখন তা আর কেবল পারিবারিক বন্ধন থাকে না- তা হয়ে ওঠে একটি জাতির মুক্তির মহাসনদ। জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা আজও তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। ইতিহাসের দীর্ঘ ব্যবধানে এই দুই ‘ব্রাদার্স’ এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছেন- আর সেটি হলো অকুতোভয় দেশপ্রেম। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে টাঙ্গাইলের সিদ্দিকী ব্রাদার্স এবং উপমহাদেশের ইতিহাসে আলি ব্রাদার্সের অবদান তাই সমান্তরাল ও চিরভাস্বর।