সংঘবদ্ধ যৌননিগ্রহের দায়ে তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

দৃষ্টি রিপোর্ট:
টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক নারীকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ যৌননিগ্রহের চাঞ্চল্যকর মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রধান আসামিকে আরও অতিরিক্ত ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রধান আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ আনম ইলিয়াস জনাকীর্ণ আদালতে ওই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- জামালপুর সদর উপজেলার কটারবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে আ. রহিম, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার কামারিয়া গ্রামের মৃত মুকছেদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম শফি এবং একই এলাকার ময়েজ উদ্দিনের ছেলে সামছুল হক সামছু। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের বিপুল অঙ্কের অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি আ. রহিমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় (অপহরণ) ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ওই আইনের ৯(৩) ধারায় (সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বা যৌননিগ্রহ) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। প্রধান আসামির এই অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া অপরাধে সমানভাবে সহায়তাকারী অপর দুই আসামি শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছুকে যৌননিগ্রহের(ধর্ষণের) ৯(৩) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দিলু মামলার নথির বরাত দিয়ে জানান, বিগত ২০২৩ সালের ২২ জুন আসামিরা ভুক্তভোগী ওই নারীকে বিয়ের পাত্র দেখানোর প্রলোভন দেখায়। এরপর তাকে জামালপুর থেকে কৌশলে টাঙ্গাইলের মধুপুরের দোখলা বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন বনের ভেতর নিয়ে প্রথমে প্রধান আসামি আ. রহিম এবং পরবর্তীতে অপর দুই আসামি শফিকুল ও সামছুল ভুক্তভোগীর উপর সংঘবদ্ধভাবে যৌননিগ্রহ(ধর্ষণ করে) চালায়। এই নৃশংস ঘটনার পর ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মধুপুর থানার এসআই আব্দুস সাত্তার ঘটনার তদন্ত শেষে একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত মঙ্গলবার ওই রায় প্রদান করেন। রায়ের পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কঠোর নিরাপত্তায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দিলু সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারী ন্যায়বিচার পেয়েছেন। এটি সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি দৃষ্টান্তমূলক বার্তা দেবে।
অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. শাহানশাহ সিদ্দিকী মিন্টু। তিনি জানান, আসামিপক্ষ ন্যায় বিচার পাননি। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে।
ঠিকানা: জেলা সদর রোড, বটতলা, টাঙ্গাইল-১৯০০
ইমেইল: dristytvnews@gmail.com
সম্পর্কিত খবর

জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড
৩০/০৬/২০২৬

ভাতিজাকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে চাচার ফাঁসির আদেশ
৩০/০৬/২০২৬

শিশুপুত্র হত্যার দায়ে মায়ের ১৩ বছর কারাদন্ড
২৯/০৬/২০২৬

প্রতিবেশিকে হত্যার দায়ে বাবা-ছেলে সহ ৮ জনের যাবজ্জীবন
২৯/০৬/২০২৬

ভূঞাপুরে ওষুধের পাঁচ দোকানে জরিমানা
২৩/০৬/২০২৬

রামিসা হত্যা : ১ জুন সোহেল-স্বপ্নার বিচার শুরু
২৪/০৫/২০২৬
