মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, ২১ মহররম ১৪৪৮
DristyTV

মালয়েশিয়া প্রবাসী যুবকের লাশ ফিরল কফিনে

একদিকে সন্তান হারানোর শোক, অন্যদিকে ৫ লাখ টাকা ঋণ

D
Dristy TVপ্রকাশ: ৭ জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪
মালয়েশিয়া প্রবাসী যুবকের লাশ ফিরল কফিনে

দৃষ্টি নিউজ:

পরিবারের হাল ধরতে এবং অভাব দূর করতে ঋণ করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন একমাত্র ছেলে জাকির হোসেন (২৫)। স্বপ্ন ছিল কঠোর পরিশ্রম করে বাবার ঋণ শোধ করবেন, সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু তিন বছর পর জীবিত নয়, তিনি ফিরলেন কফিনবন্দি লাশ হয়ে। একমাত্র সন্তানের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর বাবা-মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দিনমজুর বাবা মো. মোজাম্মেল ও মা জরিনা বেগমের একমাত্র ছেলে মো. জাকির হোসেন জীবিকার তাগিদে তিন বছর আগে ধার-দেনা করে মালয়েশিয়ায় যান। কৈশোর জীবন থেকেই সংসারের অভাব-অনটন দেখে বড় হওয়া জাকিরের স্বপ্ন ছিল একটি সুন্দর ও সচ্ছল সংসার গড়ার। মৃত্যুর আগে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মালয়েশিয়ায় জ্বরে ভুগছিলেন জাকির। পরে স্ট্রোক করলে গত ২৪ জুন সেখানে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও অপেক্ষার পর গত সোমবার(৬ জুলাই) রাতে তার মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছায়।

সরেজমিনে জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে মরদেহ গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া দক্ষিণপাড়ায় পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। উঠানের মাঝখানে একমাত্র সন্তানের কফিন জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ বাবা মো. মোজাম্মেল। মা জরিনা বেগম ও একমাত্র বোন শোকে নির্বাক হয়ে গেছেন। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো গ্রামে যেন স্তব্ধতা নেমে এসেছে। এদিকে মালয়েশিয়ায় কম বেতনের চাকরি করায় বাবার নেওয়া ঋণের পুরো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি জাকির। বর্তমানে পরিবারের মাথায় এখনো প্রায় ৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ঋণের বোঝা রয়েছে। একদিকে একমাত্র সন্তানকে হারানোর তীব্র শোক, অন্যদিকে পাওনাদারদের ঋণের বোঝা- সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এই দরিদ্র পরিবারটি। যে ছেলেকে ঘিরে দিনমজুর বাবা-মা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ সেই ছেলের নিথর দেহটুকুই তাদের শেষ সম্বল। যে ছেলে সংসারের হাল ধরবে বলে বিদেশে গিয়েছিল, সে-ই আজ কফিনবন্দি হয়ে ফিরে এলো নিজের চিরচেনা গ্রামে।