রবিবার ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, ১২ মহররম ১৪৪৮
DristyTV

বিদ্যুতের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

তীব্র যানজটে চরম ভোগান্তি

D
Dristy TVপ্রকাশ: ২৮ জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮
বিদ্যুতের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

দৃষ্টি রিপোর্ট:

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। রোববার(২৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচির কারণে মহাসড়কের ডুবাইল ও জামুর্কি এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ডুবাইল ও জামুর্কি এলাকায় স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অবরোধ কর্মসূচিতে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের চার শতাধিক সাধারণ মানুষ অংশ নেয়। এর মধ্যে দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল, নাটিয়াপাড়া, সেহড়াতৈল, ইসলামপুর ও পড়াইখালি এবং মির্জাপুর উপজেলার মহেরা, জামুর্কী, পাকুল্লা সহ বিভিন্ন গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ ওই কর্মসূচিতে শামিল হন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানায়, বারবার পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে বিষয়টি জানিয়েও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি। কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে তারা মহাসড়কে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং তাদের দাবির প্রতি সহমত পোষণ করে দ্রুত বিদ্যুৎ বিভ্রাট সমস্যা সমাধানের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেন। কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের নিশ্চয়তা পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বিদ্যুতের দাবিতে কয়েকটি গ্রামের গ্রাহকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে মির্জাপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা গিয়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেয়। তাৎক্ষণিক পুলিশি তৎপরতায় মহাসড়কের দু’পাশে যানজট নিরসন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মির্জাপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. মোখলেসুর রহমান জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে স্থানীয়রা ঘণ্টা ব্যাপী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। তিনি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে চলে আসেন এবং সমস্যা সমাধানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের দাবি ছিল, টাঙ্গাইলের মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের সঙ্গে তাদের এলাকার বিদ্যুতের সংযোগ যুক্ত করার জন্য- যাতে তারা লোডশেডিংয়ের কবলে না পড়েন।

তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তিনিও এ সমস্যার দ্রুত সমাধান চান। পরে অতিদ্রুত এ সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়ায় আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেয়।