অলোয়া ভূমি অফিসে তদন্ত চলছে ঘুষ দাবির

দৃষ্টি নিউজ:
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের অলোয়া ইউনিয়ন অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বানিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মিসকেস মোকদ্দমার তদন্তকালে জমির মালিকের কাছে ঘুষ দাবির বিষয়ে তদন্ত চলছে। এর আগে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ এনে প্রতিকার চেয়ে কাগমারীপাড়া গ্রামের ইউনুস আলী উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) অফিসে আবেদন করেন।
অভিযোগে প্রকাশ, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার কাগমারী শিয়ালকোল মৌজার ৫৪৬৩ নং খতিয়ানে ৪৩০ নম্বর দাগের ০.১০০০ শতক ভূমি নিয়ে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (ভূঞাপুর থানা আমলী) আদালতে সি আর ৩২৩/২০২৩ নং মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় জেল-হাজত বা শাস্তি হওয়ার আশঙ্কায় বিবাদীপক্ষ স্থানীয় গণ্যমান্য বক্তিদের মধ্যস্থতায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আপস-মীমাংসা মূলে শর্ত সাপেক্ষে বাদীপক্ষ মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়।
আপসের শর্ত মোতাবেক বাদী পক্ষের কাছ থেকে এসএ ২৯৬, বিআরএস ৪৩০ নং দাগে বিবাদীপক্ষের নেওয়া ১৩ শতাংশ ভূমির কাতে ১০ শতাংশ ভূমি বাদীপক্ষকে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে না দাবি দলিল করে দিবেন এবং বাদীপক্ষ স্থানীয় তফসিল অফিসে গিয়ে নিজ নামে নামজারি বা খারিজ করে নিবেন। মামলা প্রত্যাহার করার পরে বিবাদীপক্ষ নালিশী ভূমি ‘না দাবি’ দলিল রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে তালবাহানা করতে থাকে। বাধ্য হয়ে বাদীপক্ষ ভূঞাপুর উপজেলা ভূমি অফিসে একটি মিস কেস দায়ের করেন(নং-১৮৮(ীররর)/২০২৪-২০২৫ এবং ১৭৪৪(রী-র)/২০১৭-২০১৮ নমআর নামজারি ও জমা ভাগ। মামলাটি তদন্তভার ন্যস্ত হয় অলোয়া ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) মো. বানিজুর রহমান।
মামলার বাদী মো. ইউনুস আলী বয়োবৃদ্ধ হওয়ায় সম্প্রতি তার নাতি মো. রাসেল নালিশী ভূমির কাগজপত্র সহ মো. বানিজুর রহমানের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে দেখা করেন। মামলার তদন্ত রিপোর্ট তাদের পক্ষে দেওয়ার কথা বলে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) মো. বানিজুর রহমান রাসেলের কাছে ৭০হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। যুবক রাসেল ঘুষের টাকা দিতে অস্বীকার করায় উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) মো. বানিজুর রহমান তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং এক পর্যায়ে অফিস থেকে বের করে দেন। এ বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিকার চেয়ে মো. ইউনুস আলী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী মো. ইউনুস আলী জানান, তিনি বয়োবৃদ্ধ হওয়ায় তার নাতি রাসেলকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ ভূমি অফিসে পাঠান। তার নাতি রাসেলের সঙ্গে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা(নায়েব) খারাপ ব্যবহার করে অফিস থেকে বের করে দিয়েছেন। তিনি এর প্রতিকার চান।
অভিযোগকারী মো. ইউনুস আলীর নাতি মো. রাসেল জানান, জমির সকল কাগজপত্র নিয়ে অলোয়া ভূমি অফিসে উহসহকারী ভূমি কর্মকর্তার কাছে যান। তিনি জমির সকল কাগজপত্র পরীক্ষা করে তদন্ত রিপোর্ট দিতে ৭০ হাজার টাকা অগ্রীম দিতে বলেন। টাকা না দিলে তদন্ত প্রতিবেদনের রিপোর্ট বিবাদীদের পক্ষে দেওয়া হবে বলে জানালে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে তাকে অফিস থেকে বের করে দেন।
এ বিষয়ে অলোয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা(নায়েব) মো. বানিজুর রহমান জানান, তাকে কোনোপ্রকার কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। তিনি কারো সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন নাই। উপরন্তু ওই যুবক অফিসে এসে বেশ কয়েকজন লোকের উপস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন।
তিনি জানান, ঘুষ দাবি করার বিষয়টি সর্বৈব মিথ্যা। জমিটি মূলত ‘খ’ তফসিলভুক্ত ১/১ খতিয়ানের। এসব জমির তদন্তকাজ খুবই স্পর্শকাতর। সেজন্য তিনি বিস্তারিতভাবে মামলাটির বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। যথা সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন।
ভূঞাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন জানান, গত ২৩ এপ্রিলে দেওয়া একটি অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। প্রাথমিকভাবে খোঁজ নিয়ে তিনি অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত হতে পারেন নি। পরে সরেজমিনে প্রকাশ্য ও গোপনে অধিকতর তদন্তের জন্য একজন অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পর্কিত খবর

ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় শত বিঘা জমির ধান-খর পুড়ে অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি
২৭/০৪/২০২৬

পানিতে ডুবে কুমুদিনী কলেজের শিক্ষার্থীর মৃত্যু
২৬/০৪/২০২৬

দেশের ছয় অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে
২৬/০৪/২০২৬

বাস ভাড়ার নতুন তালিকা প্রকাশ
২৬/০৪/২০২৬

আমরা মন্ত্রণালয়ে এসি ছাড়ি না, ফ্যান ব্যবহার করি :: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী
২৫/০৪/২০২৬

টাঙ্গাইল ১০ দিনব্যাপী বিসিক উদ্যোক্তা মেলার উদ্বোধন
২৪/০৪/২০২৬
