শুক্রবার ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩, ২৯ শাওয়াল ১৪৪৭
DristyTV

কৃষক কার্ড : মাটির মানুষের ডিজিটাল মুক্তি

D
Dristy TVপ্রকাশ: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ০৭:১৬
কৃষক কার্ড : মাটির মানুষের ডিজিটাল মুক্তি

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল::

বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং এ দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো প্রান্তিক কৃষক। সভ্যতার বিবর্তন আর প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কৃষি খাতে ব্যাপক পরিবর্তন এলেও কৃষকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির অভাব দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। বিশেষ করে সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব একটি বড় অন্তরায় ছিল। এই সংকট নিরসনে বাঙালির চিরায়ত উৎসব পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে রচিত হলো বাংলাদেশের কৃষি ইতিহাসের এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বশরীরে উপস্থিত থেকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের যে মহাযজ্ঞ উদ্বোধন করলেন- তা কেবল একটি সরকারি কর্মসূচির সূচনা নয় বরং এটি বাংলাদেশের কোটি কোটি কৃষকের ভাগ্যবদলের এক নতুন অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রীর এই সাহসী পদক্ষেপ গ্রামীণ অর্থনীতির চিরাচরিত কাঠামোকে ভেঙে এক স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার দিকে আমাদের ধাবিত করছে।

১ বৈশাখ, ১৪৩৩। টাঙ্গাইলের আকাশ-বাতাস তখন উৎসবে মুখরিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন ল্যাপটপের বাটন চেপে উদ্বোধনী কর্মসূচি ঘোষণা করলেন- মুহূর্তের মধ্যেই কৃষকের মোবাইল ফোনে টুংটাং শব্দে পৌঁছে গেল সরকারি প্রণোদনার টাকা। এটি ছিল এক অভাবনীয় দৃশ্য। একই সাথে শহরের পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন ও গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন- এই সরকার কৃষিবান্ধব এবং কৃষকের উন্নয়নই এই সরকারের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। পহেলা বৈশাখ যেহেতু কৃষকের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই এই দিনটিকে কার্ড বিতরণের জন্য বেছে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘কৃষক যদি ভালো থাকে, তবেই বাংলাদেশ ভালো থাকবে। এটি কেবল একটি পরিচয়পত্র নয় বরং কৃষকের অধিকার ও আত্মমর্যাদার এক ডিজিটাল সনদ’। তাঁর এই বক্তব্য কেবল আবেগ নয় বরং এক গভীর অর্থনৈতিক সত্য। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে কৃষকের ভাগ্যবদল ও সরাসরি সহায়তা প্রদানের যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মাথায় তার বাস্তবায়ন শুরু হলো। কৃষক কার্ডের মূল দর্শন হলো প্রান্তিক কৃষককে সরাসরি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সাথে যুক্ত করা। আমাদের দেশে দীর্ঘকাল ধরে কৃষি সহায়তা বিতরণে মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বিশাল দেয়াল ছিল। এই দেয়াল ভেঙে সরাসরি কৃষকের হাতে সুবিধা পৌঁছানোই এই কার্ডের প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা হচ্ছে- (ক) সঠিক তথ্যভাণ্ডার: কে প্রকৃত কৃষক আর কে অকৃষক- তা এখন এক নিমিষেই যাচাই করা সম্ভব। (খ) আর্থিক স্বচ্ছতা: ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে যাবে- ফলে চুরির বা অনিয়মের সুযোগ থাকবে না। এবং (গ) আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: গ্রামীণ প্রান্তিক চাষি, যারা আগে কখনও ব্যাংকের বারান্দায় যাওয়ার সাহস পেতেন না, তারা এখন গর্বিত কার্ডধারী ও ব্যাংক হিসাবধারী।

এই কৃষক কার্ড কৃষকের জন্য দশদিগন্তের এক চাবিকাঠি। সংশ্লিষ্ট কার্যপত্র অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার দূরদর্শী চিন্তা থেকে এ দেশে কৃষি বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। তিনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে ‘খাল খনন কর্মসূচি’র মাধ্যমে সেচের সুব্যবস্থা করেছিলেন। খালেদা জিয়া কৃষিঋণ মওকুফ ও সারে ভর্তুকি প্রবর্তনসহ কৃষকের কল্যাণে নিয়েছিলেন নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তাদের সেই নীতি অনুসরণে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিকীকরণের এক নতুন শিখরে নিয়ে যেতে চায় সরকার। এজন্য সবার আগে সরকার দিতে চায় কৃষকের প্রকৃত মর্যাদা, সম্মান আর পরিশ্রমের স্বীকৃতি। ‘কৃষক কার্ড’ একটি সার্বজনীন ব্যবহারযোগ্য ও ইউনিক পরিচয়পত্র। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি কৃষক নিজের পরিচয়কে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। তার পরিচয় সংশ্লিষ্ট সব তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত হবে। এই তথ্যভান্ডারে কৃষকের জমির পরিমাণ, উৎপাদিত ফসলের ধরন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকবে- যা ভবিষ্যতে কৃষি সেবা প্রদানকে আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ করে তুলবে। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে যখনই কোনো সাহায্য বা সহযোগিতা আসবে, তা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছাবে, কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর প্রয়োজন হবে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দেশের কৃষকদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে একটি সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরি করছে। এই প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে পাঁচটি শ্রেণির মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসছেন। তারা হচ্ছেন- প্রান্তিক কৃষক, কৃষাণী (নারীদের কৃষিকাজে স্বীকৃতি প্রদান), মৎস্য চাষী, দুগ্ধ খামারী এবং সাধারণ চাষী। প্রথম পর্যায়ে ২২ হাজার কৃষকের তথ্য নেওয়া হলেও সরকার আগামি পাঁচ বছরের মধ্যে ২.৭৫ কোটি কৃষকের হাতে এই স্মার্ট কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই স্বচ্ছ পদ্ধতির ফলে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় নয় বরং জমির প্রকৃত চাষাবাদ ও ফসলের ধরন অনুযায়ী বরাদ্দ নিশ্চিত হবে। ভূমিহীন কৃষকরাও এই কার্ডের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আওতায় আসছেন।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এই কার্ডের ১০টি সুবিধা বাংলাদেশের কৃষি খাতের চেহারা বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এর সুবিধাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- ১. সরাসরি নগদ সহায়তা(Direct Cash Transfer): কার্ডের মাধ্যমে সরকার বছরে ২,৫০০ টাকা সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে দিচ্ছে। আগে প্রণোদনার টাকা বিতরণে অনেক ক্ষেত্রে অনিয়ম হতো। এখন কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাবে। এর মাধ্যমে কৃষকের টাকা কৃষকই পাবেন পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে। ২. ন্যায্যমূল্যে সার-বীজ (Subsidized Inputs): সার ও বীজের কালোবাজারি রুখতে কার্ডটি ‘রেশন কার্ডের’ মতো কাজ করবে। একজন কৃষকের কতটুকু জমি আছে এবং তাতে কতটুকু সার প্রয়োজন- তা কার্ডে রেকর্ড করা থাকবে। ডিলারের কাছে কার্ড পাঞ্চ করলে সরকার নির্ধারিত ভর্তুকি মূল্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউরিয়া, টিএসপি বা উন্নত বীজ কেনা যাবে। এতে করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর সুযোগ বন্ধ হবে। ৩. সেচ সুবিধা (Irrigation Support): সেচ পাম্প পরিচালনার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বা ডিজেলের ভর্তুকি পাওয়ার ক্ষেত্রে কার্ডটি পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এছাড়া বিএডিসি (BADC) বা সরকারি সেচ প্রকল্পগুলোর পানি ব্যবহারের অগ্রাধিকার কার্ডধারী কৃষকেরাই পাবেন। ৪. সহজ শর্তে ঋণ (Easy Credit Access): ব্যাংকগুলো সাধারণত গ্যারান্টার বা জামানত ছাড়া ঋণ দিতে চায় না। স্মার্ট কার্ডটি কৃষকের পেশার প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে বিশেষ করে সোনালী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে স্বল্প সুদে এবং দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। ৫. কৃষিযন্ত্র প্রাপ্তি (Farm Mechanization): সরকার বর্তমানে কম্বাইন হারভেস্টার বা পাওয়ার টিলারের মতো দামি যন্ত্রপাতিতে ৫০% থেকে ৭০% পর্যন্ত ভর্তুকি দেয়। এই সুবিধা পেতে হলে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে আবেদন করা বাধ্যতামূলক- যাতে প্রকৃত চাষীরাই উন্নত যন্ত্রপাতি কিনতে পারেন। ৬. আবহাওয়ার তথ্য (Agromet Services): কার্ডের সাথে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে স্থানীয় কৃষি আবহাওয়া কেন্দ্র থেকে আগাম সতর্কবার্তা পাঠানো হবে। যেমন- হঠাৎ শিলাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টির আশঙ্কা থাকলে কৃষকরা মোবাইলে অ্যালার্ট পাবেন- যাতে তারা দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে পারেন। ৭. প্রশিক্ষণ (Capacity Building): জেলা/উপজেলা কৃষি অফিস যখন নতুন কোনো চাষাবাদ পদ্ধতি বা প্রযুক্তি (যেমন- ড্রোন দিয়ে সার ছিটানো) শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, তখন কার্ডধারী কৃষকদের তালিকা থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের জন্য ডাকা হবে। ৮. রোগবালাই দমনে পরামর্শ (e-Agriculture): কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ‘কৃষি বাতায়ন’ বা অনলাইন পোর্টালের সাথে যুক্ত হতে পারবেন। কার্ডের সাথে সংযুক্ত মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষক ৫-৭ দিন আগেই শিলাবৃষ্টি-অতিবৃষ্টি বা বন্যার পূর্বাভাস পাবেন। ফসলের পোকা বা রোগের ছবি তুলে পাঠালে কৃষি কর্মকর্তারা ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাৎক্ষণিক সমাধান বা ওষুধের নাম জানিয়ে দিবেন। ৯. কৃষি বীমা (Crop Insurance): জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার কৃষি বীমা চালু করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানি হলে কৃষক যেন পথে না বসেন, সেজন্য কার্ডধারীদের জন্য বিশেষ প্রিমিয়ামে ফসল বিমার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে- যা কৃষি ঝুঁকি হ্রাসে এক অনন্য উদ্যোগ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হলে কার্ডধারীরা বীমার দাবি (Claim) করতে পারবেন- যা তাদের আর্থিক ক্ষতি কমিয়ে আনবে। ১০. ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির সুযোগ (Direct Marketing): ধান বা গম সংগ্রহের মৌসুমে সরকার যখন সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কেনে, তখন এই কার্ডটি বাধ্যতামূলক। মধ্যস্বত্বভোগী বা ‘ফড়িয়া’দের দৌরাত্ম্য রুখতে সরকার এখন সরাসরি কৃষক কার্ডের তথ্য যাচাই করে কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল কিনবে। কার্ডের ডেটাবেজ ব্যবহার করে বড় বড় সুপারশপ বা রপ্তানিকারকরা সরাসরি কৃষকের ক্ষেত থেকে পণ্য কেনার চুক্তি করতে পারবেন- যা গ্রামীণ সাপ্লাই চেইনকে বিশ্বমানের করে তুলবে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত প্রান্তিক চাষিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কেবল শস্য চাষি নয়, এই কার্ডের আওতায় দুগ্ধ খামারি ও মৎস্য চাষিরাও গোখাদ্য ও মাছের খাবারের ওপর বিশেষ প্রণোদনা এবং কারিগরি সহায়তা পাবেন। এই কার্ড শ্রমসংকট মোকাবিলায় এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ।

একসময় কৃষি ছিল কেবল জীবনধারণের উপায়। কিন্তু ডিজিটাল কৃষক কার্ডের প্রবর্তন এই খাতকে একটি লাভজনক ‘বিজনেস সেক্টর’-এ রূপান্তর করেছে। উচ্চশিক্ষিত তরুণরা এখন আর চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষি উদ্যোক্তা বা ‘এগ্রো-প্রেনিওর’ হতে উৎসাহিত হবেন। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তরুণদের জন্য বিশেষ ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’ বা সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি কৃষি ঋণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা ড্রোন দিয়ে ওষুধ ছিটানো, আইওটি (IoT) ভিত্তিক সেচ ব্যবস্থা এবং গ্রিনহাউস ফার্মিংয়ে আগ্রহী। কৃষক কার্ড তাদের এই আধুনিক প্রযুক্তির সাথে আর্থিক সংযোগ ঘটিয়ে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলের ভাষণে তরুণদের প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছেন, তার মূল কথা হলো- কৃষি হবে আগামির সবচেয়ে স্মার্ট পেশা।

যেকোনো বড় পরিবর্তনের পথে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকে, যা মোকাবিলা করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রথমত, ডিজিটাল লিটারেসি বা কারিগরি জ্ঞান: গ্রামের অনেক বয়স্ক কৃষক স্মার্ট কার্ড বা অ্যাপ ব্যবহারে দক্ষ নন। এদের সহায়তার জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘কৃষি ক্যাডেট’ বা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়োগ করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, তথ্য হালনাগাদ: প্রতি বছর ফসলের ধরন বা জমির মালিকানা পরিবর্তন হতে পারে। তাই এই ডেটাবেজকে প্রতি মৌসুমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

তৃতীয়ত, ব্যাংকিং জটিলতা: অনেক সময় প্রান্তিক কৃষকরা ব্যাংকের আনুষ্ঠানিকতায় ঘাবড়ে যান। ব্যাংকগুলোকে আরও কৃষকবান্ধব হতে হবে এবং প্রয়োজনে ‘মোবাইল ব্যাংকিং’ এর সাথে এই কার্ডের পূর্ণ সমন্বয় করতে হবে।

আগামির পথচলায় কৃষক কার্ড হবে একটি ‘মাল্টি-পারপাস স্মার্ট কার্ড’। ভবিষ্যতে এই কার্ডের মাধ্যমেই মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা, ই-সয়েল হেলথ কার্ড এবং কৃষকের জন্য বিশেষ পেনশন স্কিম যুক্ত করা যেতে পারে। ১,১৫০ কোটি টাকার এই পাইলট প্রকল্প যদি সফলভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে বাংলাদেশ কেবল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই হবে না বরং কৃষি পণ্য রফতানিতেও শীর্ষে পৌঁছাবে।

পহেলা বৈশাখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে টাঙ্গাইলের মাটি থেকে যে নতুন সূর্যোদয় হলো, তার আলোয় উদ্ভাসিত হোক বাংলার প্রতিটি গ্রাম। কৃষক কার্ড কেবল একটি প্লাস্টিক কার্ড বা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি কোটি কোটি কৃষকের স্বপ্নের দলিল। এটি কৃষকের লড়াইয়ের হাতিয়ার। আমাদের জিডিপিতে কৃষির অবদান বাড়াতে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি কৃষি পণ্য রপ্তানি করতে এই ডিজিটাল রূপান্তর ছিল সময়ের দাবি। এই ডিজিটাল হাতিয়ার ব্যবহার করে বাংলার কৃষক যখন বিশ্বজয়ের পথে হাঁটবে, তখনই সার্থক হবে আমাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার লড়াই।

লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।