যমুনার গ্রাসে টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক
ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ১৫ কিমি ঘুরে যাতায়াত দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

দৃষ্টি রিপোর্ট:
প্রমত্ত্বা যমুনার প্রবল থাবায় আকষ্মিক ভাঙনের মুখে পড়েছে টাঙ্গাইল-ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কে গোপালপুরের শাখারিয়া অংশ। সোমবার(২০ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া স্রোতের তীব্র গর্জনে মঙ্গলবার(২১ জুলাই) ভোরে আঞ্চলিক মহাসড়কটির একাংশ যমুনার পেটে চলে গেছে। ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের চালকরা। বর্তমানে সব ধরনের যানবাহনকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে মূল্যবান সময় এবং দ্বিগুণ যাতায়াত ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। সড়কের একাধিক অংশ নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানায়, আঞ্চলিক মহাসড়কের শাখারিয়া অংশে সোমবার দিনগত রাতে ভাঙন দেখা দিলে তারা বাঁশ ও গাছ কেটে তীব্র স্রোত ঠেকানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান। ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের অভিযোগ, প্রতি বছর নদী ভাঙলে পানি উন্নয়ন বোর্ড তড়িঘড়ি করে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে। কিন্তু এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। যমুনার ভয়াল গ্রাস থেকে সড়ক ও জনপদ রক্ষা করতে হলে জিও ব্যাগের পরিবর্তে অনতিবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খবর পেয়ে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেছে। ভাঙন কবলিত অংশে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। যমুনার তীব্র স্রোতের কারণে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে তারা আঞ্চলিত মহাসড়কের পশ্চিমাংশে জিওব্যাগের সঙ্গে মাটি ফেলে আলাদা বাঁধ তৈরির চেষ্টা করছেন। কিছুটা সফলও হয়েছেন, এখনও ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে।

স্থানীয় রাকিব হাসান, মোর্শেদুর রহমান, আব্দুর রশিদ সহ অনেকেই জানান, ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। তবে শ্রমিকদের সঙ্গে তারা মিলে রাতে নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। তারা যেটা করেছেন, সেটা শুধু সাময়িক প্রতিরোধ। নদীতীর রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে জিওব্যাগ কোন কাজে আসবে না। প্রতিবছর বন্যায় এ আঞ্চলিক মহাসড়কটি সংকটে পড়ে। অঞ্চলিক মহাসড়কের কয়েকটি অংশে গত বর্ষায়ও একই অবস্থা হয়েছিল।
স্থানীয় প্রভাবশালী আব্দুল হালিম তালুকদার জানান, যমুনা নদী বেশ কয়েকদিন ধরেই আগ্রাসী হয়ে ওঠেছে। টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক এ এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মহাসড়কে যমুনার থাবা পড়লে গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি জানান, সাবেক উপমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
নলিন বাজারের ব্যবসায়ী নুরই আলম জানান, টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কে গোপালপুর উপজেলার নলিন বাজারের উত্তরে শাখারিয়া এলাকার স্লুইসগেটের দক্ষিণ পাশে ব্লক বসানো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বেশ কয়েকটি অংশে যমুনার করাল থাবা আঘাত করে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ব্লক সে থাবা সামলাতে না পারায় ভাঙন শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পাউবোর শ্রমিকদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন ভাঙন প্রতিরোধে গাছ-জিওব্যাগ ডাম্পিং করে।
তিনি জানান, এ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেলে মুহূর্তে গোপালপুর ও ভূঞাপুরের অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রাম সহ বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হতে পারে। এতে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি এবং যোগাযোগ বিচ্ছন্ন হয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুরুল মোর্শেদ জানান, টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। গত দুই দিনই তিনি ওই আঞ্চলিক মহাসড়ক পরিদর্শন করেছেন।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের(পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন জানান, স্থানীয়দের কাছে সংবাদ পেয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং জিওব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের যে সব জায়গা সংস্কার করা দরকার সেগুলো সংস্কার করলেই আঞ্চলিক মহাসড়ক সড়ক নিরাপদ থাকবে।
ঠিকানা: জেলা সদর রোড, বটতলা, টাঙ্গাইল-১৯০০
ইমেইল: dristytvnews@gmail.com
সম্পর্কিত খবর

টাঙ্গাইল-জামালপুর সড়কে বাস-বাইক সংঘর্ষে নারী নিহত
১০/০৭/২০২৬

টাঙ্গাইলে বন্যার আগাম পূর্বাভাস ভিত্তিক প্রস্তুতি মহড়া অনুষ্ঠিত
০৯/০৭/২০২৬

টাঙ্গাইলে ৬ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৩০ জনের, রেলে মৃত ১৮
০৯/০৭/২০২৬

মধুপুরে প্রাইভেটকারের চাপায় ভারসাম্যহীন নারী নিহত
০৭/০৭/২০২৬

দেশে জুলাই-আগস্টে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা
০৩/০৭/২০২৬

ছাগল ছানা উদ্ধারে গিয়ে চার গারো আদিবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু
২০/০৬/২০২৬
