রবিবার ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, ২৬ মহররম ১৪৪৮
DristyTV

বাসাইলে সালিশ শেষে অন্তঃসত্ত্বাসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম

D
Dristy TVপ্রকাশ: ১২ জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৯
বাসাইলে সালিশ শেষে অন্তঃসত্ত্বাসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম

বাসাইল প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের বাসাইলে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সালিশি বৈঠক শেষে দুই নারীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোড়-হাকিমপুর মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতদের বড় ভাই সুরুজ্জামান বাদী হয়ে বাসাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আহত ব্যক্তিরা হচ্ছেন- বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোড়-হাকিমপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আব্দুস ছবুর মিয়ার মেয়ে পারভিন বেগম (৪৫), তার ছেলে নূরুল আমিন (৩৮) ও নূরুল আমিনের স্ত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা উর্মি আক্তার (২৮)।

অভিযুক্তরা হচ্ছেন- একই এলাকার মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে রহিম ওরফে মুল্লুক চাঁন (৪৫), আব্দুল লতিফ (৪০), তার মেয়ে ফাতেমা বেগম (৩৫) ও রহিম ওরফে মুল্লুক চাঁনের স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাপনাজোড়-হাকিমপুর মধ্যপাড়া এলাকার সুরুজ্জামান ও পাশের বাড়ির রহিম ওরফে মুল্লুক চাঁনের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে ইতোপূর্বে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশি বৈঠক হলেও মীমাংসা হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমজান মিয়াসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আবারও একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই পক্ষই প্রথমে রায় মেনে নেয়। তবে সালিশ শেষে মাতব্বররা চলে যাওয়ার পরপরই রহিম ওরফে মুল্লুক চাঁন ও তার ছোট ভাই আব্দুল লতিফসহ বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সুরুজ্জামানের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা সুরুজ্জামানের ছোট বোন পারভিন আক্তারের মাথায় দা দিয়ে কোপায় এবং হাতে লোহার শাবল দিয়ে আঘাত করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে নূরুল আমিন ও তার গর্ভবতী স্ত্রী উর্মি আক্তারকেও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত চলে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় পারভিন আক্তার, নূরুল আমিন ও তার ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী উর্মি আক্তারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে নেওয়া হয়। পারভিন আক্তারের মাথায় ১২টি ও হাতে ৩টি সেলাই করা হয়েছে। তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদের মধ্যে পারভিন আক্তারের অবস্থা গুরুতর।

আহত পারভিন আক্তারের বড় ভাই সুরুজ্জামান বলেন, ‘চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকে বসা হয়। সালিশে বিষয়টি সমাধান হয়। কিন্তু মাতব্বররা চলে যাওয়ার পর রহিম ওরফে মুল্লুক চাঁন ও তার ছোট ভাই আব্দুল লতিফসহ কয়েকজনে মিলে দা ও লাঠি নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।

কাশিল ইউপি চেয়ারম্যান রমজান মিয়া বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয় নিয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশে বসা হয়েছিল। ওইদিন বৃষ্টি থাকায় জমির পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি। আমরা সেখান থেকে চলে আসার পর প্রতিপক্ষরা হামলা চালিয়ে পারভিন নামে এক নারীকে দা দিয়ে কুপিয়ে ও লোহার শাবল দিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। বিষয়টি সমাধান হওয়া জরুরি।’

বাসাইল থানার এসআই ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পরে আহতদের হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।’