ভূঞাপুরে দায়িত্ব হস্তান্তরের সুযোগ না দিয়ে কেড়ে নেয়া হলো বিদ্যালয়ের চাবি!
আলোচনা-সমালোচনার ঝড়

দৃষ্টি রিপোর্ট:
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিনয় কৃষ্ণ বসাকের কাছ থেকে এক প্রকার জবরদস্তি করে বিদ্যালয়ের চাবি কেড়ে নেওয়া হয়েছে! কর্মজীবনের শেষ দিনে(৩১ মে) ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে গেলে ধর্মীয় শিক্ষক শহীদুল ইসলাম, সুবাস পাল, হাবিবুর রহমান সংগ্রাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক তাঁর কাছ থেকে জোর করে চাবি ছিনিয়ে নেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিনয় কৃষ্ণ বসাক এক রাত সময় চেয়ে সোমবার(১ জুন) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসানের উপস্থিতিতে চাবি ও দায়িত্ব হস্তান্তরের আবদার করেন। কিন্তু রাতটুকু সময়ও দেননি ক্ষমতালোভী শিক্ষক শহীদুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানা যায়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঈদের ছুটি চলছে। ২৪ মে থেকে শুরু হওয়া ছুটি শেষ হবে ৪ জুন। ৫ ও ৬ জুন শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় বিদ্যালয় খুলবে ৭ জুন। এদিকে গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার মোহাম্মদ আলীর বিদায়ের পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান সহকারী প্রধান শিক্ষক বিনয় কৃষ্ণ বসাক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরও শেষ কর্মদিবস ছিল রোববার (৩১ মে)। এর আগের থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হওয়ার লক্ষ্যে সরকার দলীয় বিভিন্ন নেতার পেছনে দৌড়াতে থাকেন ক্ষমতালোভী ধর্মীয় শিক্ষক শহীদুল ইসলাম। সফল হওয়ার পথেই ছিলেন তিনি। ঈদের ছুটি থাকলেও সার্বিক খোঁজখবর নিতে রোববার বিদ্যালয়ে যান বিনয় কৃষ্ণ বসাক।
এসময় সেখানে গিয়ে হাজির হন শিক্ষক শহীদুল ইসলাম, সুবাস পাল, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষক। দায়িত্ব ও চাবি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তারা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে চাপ দেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিনয় কৃষ্ণ বসাক অনুরোধ করেন রাতটুকু সময় চান এবং রাত পোহালেই সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু ক্ষমতালোভী ধর্মীয় শিক্ষক শহীদুল ইসলাম তার সহযোগীদের নিয়ে বলপ্রয়োগ করে চাবি ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনা বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা জানার পর তাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করে অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার পর বিদ্যালয়ে ছুটি থাকায় একটি রাত সময় চাইলে তিনি পেতেই পারেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে দায়িত্ব হস্তান্তর হলে সব দিক থেকেই ভালো। এভাবে বলপ্রয়োগ করে চাবি কেড়ে নেওয়ার কোন দরকার ছিলনা। ক্ষমতার লোভ মানুষকে অন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।
এলাকাবাসী বিতর্কিত ধর্মীয় শিক্ষক শহীদুল ইসলামকে বাদ দিয়ে অন্য কোন সিনিয়র শিক্ষককে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিনয় কৃষ্ণ বসাক বলেন, শেষ সময়ে এমনটা আশা করিনি। কয়েকজন শিক্ষক চাপ দিয়েছে। আমি সকাল পর্যন্ত সময় চেয়েছিলাম। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসারের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে চেয়েছি- সেই সময়টুকুও আমাকে দেওয়া হয়নি।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের দায়িত্ব হস্তান্তর এবং আইন অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষককে এই পদে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।
ঠিকানা: জেলা সদর রোড, বটতলা, টাঙ্গাইল-১৯০০
ইমেইল: dristytvnews@gmail.com
সম্পর্কিত খবর

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
২১/০৪/২০২৬

মঙ্গলবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু
২০/০৪/২০২৬

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২ জুলাই
১৮/০৪/২০২৬

পরীক্ষায় তুমি ফেল, ৬ মাস পর আমিও ফেল :: শিক্ষামন্ত্রী
১১/০৪/২০২৬

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
১১/০৪/২০২৬
