মঙ্গলবার ২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ১৬ জিলহজ্জ ১৪৪৭
DristyTV

এলাকাবাসী মরদেহের ময়নাতদন্ত চায়!

টাঙ্গাইলে বৃদ্ধের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

D
Dristy TVপ্রকাশ: ২ জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭
এলাকাবাসী মরদেহের ময়নাতদন্ত চায়!

ইমরুল হাসান বাবু:

টাঙ্গাইল শহরের দক্ষিণ থানাপাড়ায় এলাকায় সত্তর বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাবকাবাসীর অভিযোগ, পরিবারের কয়েক সদস্য দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে ওই বৃদ্ধর মৃত্যু হয়েছে। তাদের দাবি, ওই বৃদ্ধর মরদেহের ময়নাতদন্ত করলেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে। নিহত বৃদ্ধ রতন মিয়া(৭০) দক্ষিণ থানাপাড়া এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি একজন মুদি দোকানদার ছিলেন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ দোকানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র ও স্বজনদের দাবি, পারিবারিক সম্পত্তি এবং জমির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে রতন মিয়ার সঙ্গে পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরোধ চলছিল। নিহতের স্বজন বাবলু ও স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বাবুসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ওই বিরোধের জের ধরে সোমবার(১ জুন) রাতে রতন মিয়াকে মারধর করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে দোকানে অবস্থানকালে রতন মিয়ার সঙ্গে তার পুত্রবধূ রোজিনা আক্তার ও নাতনী নদী আক্তারের তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে তারা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করলে রতন মিয়া আত্মরক্ষার্থে দোকানের ভেতরে আশ্রয় নেন। এ সময় দোকানের মালামালও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনার একপর্যায়ে রতন মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথেই তার মৃত্যু হয়।

নাম প্রকাশ না করে স্থানীয় কয়েক নারী জানায়, বয়সের ভারে ন্যূব্জ থাকা সত্ত্বেও রতন মিয়া নিজেই উপার্জন করে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতেন। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে তিনি বিভিন্ন সময়ে মানসিক ও শারীরিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। পরিবারের কয়েক সদস্য এরআগেও তাকে মারধর করেন। মারধরের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছিল।

এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এ মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে বৃদ্ধের মরদেহের ময়নাতদন্ত করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হোক।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) রুহুল আমীন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তিনি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন।