কালিহাতী প্রতিনিধি:
সমাজ থেকে অন্ধকার দূর করে একটি সুস্থ ও নিরাপদ প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক অনন্য প্রচারণা সভা। বৃহস্পতিবার(১৩ আগস্ট) বিকালে উপজেলার পারখী ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ বাজারে মাদক, বাল্যবিয়ে এবং ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে তীব্র সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেওয়া হয়েছে।
কালিহাতী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিনের বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনায় আউলিয়াবাদ বাজার প্রাঙ্গণে এই ব্যতিক্রমী সভার আয়োজন করা হয়। বিকেলে বাজার প্রাঙ্গণ পরিণত হয় সর্বস্তরের মানুষের এক বিশাল মিলনমেলায়, যেখানে সবাই কণ্ঠ মেলান সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে।
সভায় বক্তারা অত্যন্ত ক্ষোভ ও উদ্বেগের সাথে সমাজ ধ্বংসকারী এই তিন ব্যাধির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, ‘একটি মাদকাসক্ত তরুণ বা একটি বাল্যবিবাহ শুধু একটি জীবন নয় বরং পুরো পরিবার ও সমাজকে অন্ধকারের অতল গহ্বরে ঠেলে দেয়। একইভাবে, ইভটিজিংয়ের মতো জঘন্য অপরাধ আমাদের কিশোর-কিশোরীদের স্বাভাবিক বিকাশ ও শিক্ষার নিরাপদ পরিবেশকে পুরোপুরি বিষাক্ত করে তুলছে।’
এই সামাজিক ব্যাধিগুলো শুধু আইন দিয়ে শতভাগ নির্মূল করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে সভায় সমন্বিত প্রতিরোধের ওপর জোর দেওয়া হয়। বক্তারা পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সাধারণ জনগণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এই চার শক্তির সমন্বয়ে প্রতিটি এলাকায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভেদ্য দুর্গ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পারখী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আব্বাসীর সভাপতিত্বে সভায় টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক একেএম আব্দুল আউয়াল, ডা. শাহ আলম তালুকদার, কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো, কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কাইয়ুম খান সিদ্দিকী, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান বাবুল, কালিহাতী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রতন, মহিলা নেত্রী সুলতানা রাশিদা খান (প্রিয়াঙ্কা), কালিহাতী উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, আউলিয়াবাদ বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ শাজাহান, পারখী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত করিম প্রমুখ অংশ নেন।
আউলিয়াবাদ বাজারের ব্যবসায়ী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ শত শত সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে সভাটি একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়। উপস্থিত সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই তিন অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার বজ্রশপথ নেন।