দৃষ্টি রিপোর্ট:
হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে এবং রোগীদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত ‘স্বচ্ছ অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টামেক হাসপাতালের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, চিকিৎসকদের অবহেলায় কোনো রোগী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক ও যত্নশীল হতে হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ (টামেক) হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাঙ্গাইলের প্রায় ৫০ লাখ মানুষের চিকিৎসায় জেনারেল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালই প্রধান ভরসা। ঢাকার সমমানের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় মানুষ এ হাসপাতালের ওপর আস্থা রাখছে- যা অত্যন্ত ইতিবাচক। এই আস্থা ধরে রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে এবং যার যার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের বিদ্যমান জনবল সংকট দ্রুত দূর করার আশ্বাস দেন তিনি।
উচ্চপর্যায়ের এই সমন্বয় সভায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্টাফ সংকট দূরীকরণ, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার মানোন্নয়ন, ওয়ার্ডের পরিবেশ ও খাবারের মান বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া হাসপাতাল থেকে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নির্মূল, প্রধান ফটকের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, ফরেনসিক বিভাগ চালু এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর স্বাগত বক্তব্যে হাসপাতালের সার্বিক চিত্র ও উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপনা আকারে তুলে ধরেন পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস।
টামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফখরুল আমিন বাদলের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রবিউল ইসলাম, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু এবং জেলা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ড্যাব) সভাপতি ডা. আব্দুল মতিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।