দৃষ্টি রিপোর্ট:
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের রাজপথের দীর্ঘ ১৭ বছরের পরীক্ষিত ও সাহসী ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়কে একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী মহলের ইন্ধনে টার্গেটেড ফ্রেমিংয়ের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সুবিধাভোগী ও হাইব্রিডদের উত্থান এবং দলীয় একাংশের পরোক্ষ সহযোগিতায় এই লড়াকু সৈনিকের বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় একজন খাঁটি বিএনপি পরিবারের সন্তান। হাই স্কুল জীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে তার সম্পৃক্ততা। বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে হরতালের সমর্থনে মশাল মিছিলের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তৎকালীন কঠিন সময়ে তাকে ছাড়া মিছিল করতে ছাত্রদলের সাধারণ নেতা-কর্মীরা ভয় পেত- এমনই এক সাহসী ও রাজপথ কাঁপানো নেতা ছিলেন তিনি। ১৯৯৭-১৯৯৮ মেয়াদে ইব্রাহীম খাঁ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি পৌর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় বাসিন্দা খন্দকার রফিক, আমিনুল, মোঃ হাফিজুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, মহসিন এবং আব্দুল খালেক সহ অনেকেই জানান, জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। মানুষ হিসেবে তিনি অত্যন্ত সুশীল এবং পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি একজন আইকন। তার নামে এই টার্গেটেড ফ্রেমিং একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে করা হচ্ছে।
রাজনীতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৯৪ সালে তিনি সর্বপ্রথম ‘ভ্যান, রিকশা, শ্রমিক সমিতি ভূঞাপুর বাজার’ নামে একটি অরাজনৈতিক ও কল্যাণমুখী সংগঠন গড়ে তোলেন এবং ২০০৯ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইল জেলা অটোরিকশা ভ্যান শ্রমিক সমিতির ভূঞাপুর শাখার সভাপতি, বাংলাদেশ পোল্টি ইন্ডাট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন ভূঞাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এবং ভূঞাপুর উপজেলা পরিবেশক মালিক সমিতির একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আগামি ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ভূঞাপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়ের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। এই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং যমুনা নদীর ‘ভাবীর ঘাট’ নামে খ্যাত বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ অবৈধভাবে দখল করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে।
ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ভাবীর ঘাটের মালিক পক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে বড় ধরনের কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধ করতে এবং প্রকৃত ঘাটের মালিক যাচাই করার লক্ষ্যে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব হাসান এবং ভূঞাপুর থানার ওসি একেএম রেজাউল করিম নিজে সশরীরে স্পটে হাজির হন। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে প্রশাসন থেকে তাৎক্ষণিক ঘাটটির সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রশাসনের এই দূরদর্শী পদক্ষেপের পর থেকেই ওই এলাকায় বর্তমানে শান্তি বিরাজ করছে। বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত শত্রুতা চরিতার্থ করতে কুচক্রী মহলটি মূলত একটি আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রকে ব্যবহার করছে। ওই প্রতারক চক্রটি স্থানীয় মাহিন, নিজাম ও শাকিল মিয়া সহ আরো কয়েকজনের সমন্বয়ে গঠিত। তারা দেশে এবং প্রবাসে ডেটিং অ্যাপসের মাধ্যমে বড় ধরনের স্ক্যামিং বা প্রতারণার সাথে জড়িত। নিজেদের এই অপকর্ম আড়াল করতে এবং ভূঞাপুরের একটি বিশেষ মহলের হয়ে দাবার ঘুঁটি হিসেবে কাজ করতে প্রতারক মাহিনকে বাদী করে ভূঞাপুর থানায় একটি ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করানো হয়েছে (ভূঞাপুর থানার মামলা নং-৯, জি,আর ১৩৫/২০২৬)। ওই মামলায়ও ত্যাগী নেতা জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়কে জড়ানোর পায়তারা করা হচ্ছে।
এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, দলের জন্য দুর্দিনের পরীক্ষিত এই সকল কর্মীকে ম্লান করতে বিএনপিরই একটি অংশ বিভিন্ন মিথ্যা অপপ্রচার ও কুৎসিত কৌশল অবলম্বন করে ব্যক্তি ইমেজ নষ্ট করার পায়তারা করছে। যার সর্বশেষ শিকার হিসেবে বিএনপির একজন অত্যন্ত সক্রিয় কর্মীকে টার্গেট করা হয়েছে। তৃণমূলের রাজনীতি ও দলের অস্তিত্ব রক্ষার্থে এই বিষয়ে অবিলম্বে বিএনপির হাই কমান্ডের কঠোর ও সরাসরি দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে মনে করেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলু জানান, বিএনপি ঘরাণার একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় অত্যন্ত সক্রিয়। সরাসরি বিএনপির সঙ্গে জড়িত না থাকলেও তিনি বিএনপি ঘরাণার শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনের হয়ে কাজ করে থাকেন। সম্প্রতি ফেসবুকের অস্বস্তিকর কিছু বক্তব্য তাকে বিপর্যস্ত করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মী এবং মানুষ হিসেবে তিনি অত্যন্ত সৎ, কর্মঠ ও নিবেদিত।