হঠাৎ ঝাপটায় শ’ শ’ কৃষকের স্বপ্ন লণ্ডভণ্ড

মধুপুরে আকস্মিক ঝড়ে ১১শ’ বিঘা জমির ফসল বিনষ্ট
D
Dristy TV
মধুপুর • প্রকাশিত: ১৩ মিনিট আগে
হঠাৎ ঝাপটায় শ’ শ’ কৃষকের স্বপ্ন লণ্ডভণ্ড

মধুপুর প্রতিনিধি:

চাঁদের হাসি মেখে উঁকি দিচ্ছিল কলার কাঁদি, আনারসের বাগানেও ফুল বের হচ্ছে, পেঁপে ও সবজি বাগানেও ছিল আশানুরূপ ফলন। ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন কৃষকরা। স্বপ্ন দেখছিলেন ঘুরে দাঁড়ানোর। অসময়ে হঠাৎ ঝড়ের ঝাপটায় স্থানীয় শ’ শ’ কৃষকের সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। কোথাও সারি সারি কলাগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনারস ও পেঁপের বাগান। ঝড়ে সবজি ক্ষেতেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে মাত্র কয়েক মিনিটের আকস্মিক ঝড়ে প্রায় ১১শ’ বিঘা জমির বিভিন্ন জাতের ফসল বিনষ্ট হয়ে গেছে। আকস্মিক ঝড়ের ওই থাবায় কৃষকের সেই স্বপ্ন লন্ডভণ্ড হয়ে গেছে।

ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল অরনখোলা, শোলাকুড়ী ও ফুলবাগচালা ইউনিয়নে হঠাৎ ঝড়ের ঝাপটা শুরু হয়। আকস্মিক মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড়ের থাবায় বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের ফসল লন্ডভণ্ড হয়ে যায়- একই সঙ্গে কপাল পুড়ে শ’ শ’ কৃষকের।

স্থানীয় কৃষকরা জানায়, তাৎক্ষণিক ঝড়ের তীব্রতায় অধিকাংশ কলাগাছের মাজা ভেঙে গেছে। ফলন্ত কলাগাছ উপড়ে বা হেলে পড়ায় তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পেঁপের বাগানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের সবজি বাগানও ঝড়ের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষক ধারদেনা করে বাগানে বিনিয়োগ করেছেন। ফলে ঝড়ের এই ক্ষয়ক্ষতি তাদের আর্থিক সংকট আরও বাড়িয়ে দিবে।

হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম বলেন, ‘জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি আনারস ও কলাবাগানে বিনিয়োগ করেছি। অনেক দিন ধরে পরিচর্যা করছি। ফসল বিক্রি করে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর স্বপ্ন ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবো, সেটাই বুঝতে পারছি না।’

একই গ্রামের কৃষক লালচাঁদ বলেন, ‘একটি কলাগাছ তৈরি করতে কয়েক মাস সময় ও টাকা লাগে। ফলন আসার পর যদি গাছ ভেঙে যায়, তাহলে পুরো বিনিয়োগই নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের মতো ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য এই ক্ষতি সামাল দেওয়া খুবই কঠিন।’

অরনখোলা ইউনিয়নের আমলিতলা এলাকার আজিজুল বলেন, ‘৪৫ শতাংশ জমিতে ৫০০ কলা চাষ করেছি। এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছি। এই কলা বিক্রি করেই ঋণের টাকা পরিশোধ করব। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ এক মিনিটের ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেল।’

সাইফুল ইসলাম জানান, ২৮ বিঘা জমিতে ৫ হাজার কলা চাষ করেছিলেন তিনি। ২০ দিন আগে ৪১০ টাকা দরে সেই কলা বিক্রি করা হয়েছিল এবং ক্রেতা জালাল উদ্দীন এর বিপরীতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জামানত দিয়েছেন। ঝড়ের ঝাপটায় সব সর্বনাশ হয়ে গেল।

এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, ‘মধুপুরে কয়েক মিনিটের ঝড়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আপাতত: আমার কাছে যে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এসেছে, সেই তালিকা অনুযায়ী কলার বাগান রয়েছে প্রায় ৯০০ বিঘা এবং পেঁপে বাগান রয়েছে প্রায় ২০০ বিঘা।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৃষকদের কিছু কলার বাগান আগে থেকেই বিক্রি করা ছিল এবং ক্রেতারা অগ্রীম টাকাও দিয়েছেন। এখন শুধু ক্রেতারা ধাপে ধাপে কলার কাঁদি কেটে নেওয়ার কথা ছিল। এ কারণে কৃষক এবং পাইকাররাও লোকসানের মুখে পড়েছেন।

একই বিষয়ের আরও খবর