মির্জাপুর প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মহেড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। লাইনচ্যুতির কারণে রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি নীলফামারীর চিলাহাটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ট্রেনটি যখন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া রেল স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই বিকট শব্দে ট্রেনটির পেছনের একটি বগির চাকা লাইন থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যায়। চালক তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনটি থামিয়ে দিলে বড় ধরনের কোনো বড় দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা। তবে বগিটি লাইনচ্যুত হওয়ার সময় রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার কারণে পুরো লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়েছে। হুট করে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রেলস্টেশনগুলোতে আটকা পড়া হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হওয়ায় তাদের কষ্ট আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।
মহেড়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেসটি চিলাহাটির দিকে যাচ্ছিল। ট্রেনটি আমাদের মহেড়া রেল স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে এর পেছনের একটি বগির চাকা লাইন থেকে সরে যায় এবং ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে রেললাইনের ব্লক পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই অঞ্চলের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়েছে।’
লাইন সচল করার বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেশন মাস্টার সোহেল রানা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বগিটি উদ্ধার এবং লাইন মেরামত করার জন্য রিলিফ ট্রেনের (উদ্ধারকারী ট্রেন) প্রয়োজন। বিষয়টি ইতিমধ্যে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনতিবিলম্বে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং আশা করা যাচ্ছে খুব দ্রুতই রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছাবে। উদ্ধারকারী ট্রেন এসে পৌঁছালেই লাইচ্যুত বগিটি সরিয়ে লাইনের মেরামত কাজ শুরু করা হবে।
স্টেশনের লাইনে কোনো ত্রুটি ছিল কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সোহেল রানা স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাদের স্টেশনে বা লাইনে কোনো ধরনের সমস্যা বা ত্রুটি ছিল না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনের ভেতরের কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ বা ত্রুটির কারণেই এই আকস্মিক লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। তবে তদন্তের পর বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
এদিকে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী এবং উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখী বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ শেষ করে রেললাইন পুরোপুরি সচল করতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। লাইন সচল না হওয়া পর্যন্ত এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।