স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম
৮ মাসের নির্মাণ কাজ সাড়ে ৪ বছরেও শেষ হয়নি
মু. আবিদ মল্লিক জয়:চুক্তি অনুযায়ী ৮ মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সাড়ে চার বছরে আলোর মুখ দেখেনি টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভায় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ‘সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট’। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অবহেলা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ঝুলে আছে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও পরিবেশবান্ধব এই প্রকল্প।এদিকে, পৌরসভার নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা ময়লা ফেলার জায়গা না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিরুপায় হয়ে তারা রাস্তাঘাটের পাশে, ফসলি জমির কোণে কিংবা উন্মুক্ত পুকুড়ে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। ফলে পুরো আবাসিক এলাকা এখন তীব্র দুর্গন্ধের শহরে পরিণত হয়েছে। ছড়িয়ে পড়ছে নানাবিধ পানিবাহিত ও বায়ুবাহিত রোগব্যাধি।পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৫.৫২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ৯টি ওয়ার্ড ও ১৮টি মহল্লা নিয়ে গঠিত ‘খ’ শ্রেণির কালিহাতী পৌরসভার মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪২ হাজার জন। দিন দিন শহর উন্নত হলেও নাগরিক সেবা বাড়েনি। পৌরসভায় প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দেড় টন কঠিন ও তরল বর্জ্য উৎপাদিত হয়। নাগরিকদের ফেলে দেওয়া এই বিপুল পরিমাণ আবর্জনা ও মানুষের মল-মূত্র থেকে শহরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর এলাকার তিন একর জমিতে এই মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ইনভাইরনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প বাস্তবায়নে চার কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট’ এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ১ মার্চ। ঠিকাদারি কাজ পায় ঢাকার ‘টার্ন-এনসি (জেভি)’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী, আট মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে জনস্বাস্থ প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও আজ অবধি দৃশ্যমান কোনো সুফল মেলেনি।সরেজমিনে দেখা যায়, প্লান্টের চার পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শেষ হয়েছে। তবে মূল শোধন প্রক্রিয়ার অন্যতম অঙ্গ কমবাসশন মেশিনের জন্য নির্ধারিত শেড তৈরির কাজ এখনো চলছে; অর্থাৎ পুরোপুরি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি।প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সমন্বয় করে বর্জ্য শোধনের এক বিশাল কর্মযজ্ঞের ছক আঁকা হয়েছে। কঠিন ও মানব বর্জ্য সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিশোধনের জন্য প্ল্যান্টে তৈরি করা হয়েছে- প্ল্যান্টেড ড্রায়িং বেড ও অ্যানেরোবিক ব্যাফেল রিঅ্যাক্টর (এবিআর), যা মানববর্জ্যের তরল অংশকে ক্ষতিকারক উপাদানমুক্ত করবে। কনস্ট্রাক্টেড ওয়েটল্যান্ড ও পলিশিং পন্ড- পানিকে পুরোপুরি শোধন করে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার ইউনিট। কম্পোস্ট শেড ও সর্টিং শেড- যেখানে বর্জ্য এনে জমা ও প্রক্রিয়াজাত করা হবে। লিচেট ট্যাংক ও কমবাসশন ইউনিট- ময়লা থেকে নির্গত দূষিত তরল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। এ ছাড়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য রয়েছে পার্কিং শেড, অফিস রুম এবং সিকিউরিটি রুমসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ইউনিট।সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্ল্যান্টটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এটি হবে এই অঞ্চলের জন্য একটি আশীর্বাদ। এখানে শহরের সমস্ত বর্জ্য এনে প্রথমে সর্টিং বা বাছাই করা হবে। বর্জ্য থেকে প্রথমেই লোহালক্কড়, প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতল, কাঠ এবং কাঁচের মতো অপচনশীল দ্রব্যগুলো আলাদা করা হবে। এরপর মূল পচনশীল বর্জ্য এবং শুকনো মানব বর্জ্যকে বিশেষ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করে অত্যন্ত উন্নতমানের উর্বর কম্পোস্ট জৈব সার উৎপাদন করা হবে। অন্যদিকে, আলাদা করা অপচনশীল অংশ এবং শোধন প্রক্রিয়া থেকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত হবে শক্তি (জ্বালানি) ও প্রাকৃতিক গ্যাস।প্রকল্পের এই দীর্ঘ বিলম্বের বিষয়ে মূল অবকাঠামো নির্মাণের ঠিকাদার নূরে আলম টিটুর কাছে জানতে চাইলে তিনি রাজনৈতিক ও প্রাকৃতিক নানাবিধ সমস্যার অজুহাত দেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কিছু আইনি জটিলতা, স্থানীয় এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, নিচু এলাকা হওয়াতে মাটি ভরাটে সমস্যা এবং দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা থাকার কারণে নির্মাণ কাজ অনেকখানি পিছিয়ে গেছে। নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামি দুই মাসের মধ্যে প্ল্যান্টটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।প্রকল্পের জটিলতা কেবল অবকাঠামো নির্মাণেই শেষ নয়; বর্জ্য পুড়িয়ে ধ্বংস করার মূল চালিকাশক্তি ‘কমবাসশন মেশিন’ আনার প্রক্রিয়াও থমকে আছে। চার কোটি দুই লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা ব্যয়ে এই আধুনিক মেশিন সরবরাহের জন্য ২০২৪ সালের ১২ মার্চ কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল ‘লাবণী-কেএইচটি (জেভি)’ নামে আরেকটি যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। এক বছরের মধ্যে মেশিন সরবরাহের চুক্তি থাকলেও তারা নির্ধারিত সময়ে তা দিতে পারেনি।মেশিন সরবরাহে ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করে ঠিকাদার সাদেকুল ইসলাম কাঞ্চন জানান, এই বিশেষ কমবাসশন মেশিনটি চীন (চায়না) থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। গত বছরগুলোতে চীনের সাথে ব্যাংক এলসি (ঋণপত্র) খোলার ক্ষেত্রে তীব্র বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ জটিলতা ছিল। এই এলসি সমস্যার কারণেই যথাসময়ে মেশিনটি দেশে আনা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে এই জটিলতা কেটে গেছে। অলরেডি অর্ডার চূড়ান্ত করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে- আগামি দেড় মাসের মধ্যে মেশিনটি প্রকল্প এলাকায় চলে আসবে।কালিহাতী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন জানান, প্ল্যান্টে মানব বর্জ্য নিরাপদে সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য ইতোমধ্যে পৌরসভায় জন্য পাঁচটি ভ্যান সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বসত বাড়ি, অফিস-আদালত এবং বিভিন্ন স্থাপনার সেপটিক ট্যাংক থেকে ফিক্যাল সংগ্রহ করার জন্য একটি ভেকু ট্রাক ও অপচনশীল পণ্য পরিবহনের জন্য একটি গার্বেজ ট্রাক সরবরাহ করা হয়েছে- প্ল্যান্ট চালু না হওয়ায় গাড়িগুলো পৌরসভার গ্যারেজে রাখা হয়েছে।কালিহাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারহানা মামুন বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও টেকসই কৃষিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে এ উদ্যোগ সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যাপ্ত জৈব সার উৎপাদন করা গেলে কৃষকরা কম দামে তা ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া রাসায়নিক সারের ক্ষতিকর দিক থেকে পরিবেশের যেমন উন্নতি হবে তেমনি জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে।কালিহাতী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী গাজিউর রহমান জানান, প্ল্যানটির নকশা ও ডিজাইন অনুযায়ী বাস্তবায়ন এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। জমি অধিগ্রহণ মাটিভরাট ও বর্ষাজনিত কারণে কাজটি শেষ করতে বিলম্ব হয়েছে। সঠিকভাবে বর্জ্য সংগ্রহ করে বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করা গেলে বর্জ্য পরিবেশের বোঝা না হয়ে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে।কালিহাতী পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তার জানান- পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি হস্তান্তরের জন্য ইতোমধ্যে ঠিকাদার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নানাবিধ কারণে এটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্প কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুতই এটির কর্যক্রম শুরু হবে। পৌর এলাকার শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করে এটির উৎপাদন সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করে জৈব সার কৃষকের হাতে পৌঁছবে।
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গুজব ও ডিপফেক : সত্য-মিথ্যার নতুন সংকট
মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল::মানবসভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে তথ্য ও জ্ঞানের আদান-প্রদানই ছিল ক্ষমতার মূল নিয়ামক ও প্রগতির চালিকাশক্তি। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর উত্তর-আধুনিক পর্বে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও পঞ্চম প্রজন্মের (5G) প্রযুক্তির জ্যামিতিক বিকাশ তথ্যপ্রবাহের চিরন্তন ব্যাকরণকে আমূল ওলটপালট করে দিয়েছে। বর্তমান বিশ্ব এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক তথ্য-বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, যেখানে তথ্যের অবাধ ও গণতান্ত্রিক অভিগম্যতার সমান্তরালে এক চরম বিপর্যয়কর সংকটের অশুভ উত্থান ঘটেছে- যার নাম ‘গুজব ও ডিপফেক’। এই যমজ সংকট আজ কেবল সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিকে নাড়া দিচ্ছে না বরং তা রাষ্ট্রের সার্বভৌমিকতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির সনাতন কাঠামোকেও এক অস্তিত্ববাদী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তির এই অনৈতিক অপব্যবহারের ফলে বস্তুনিষ্ঠ সত্য ও কৃত্রিম মিথ্যার মধ্যকার যে সুক্ষ্ম বিভাজিকা ছিল- তা আজ চরমভাবে বিলুপ্তপ্রায়। ফলশ্রুতিতে মানবসমাজ অবতীর্ণ হয়েছে এক গভীর জ্ঞানতাত্ত্বিক (Epistemological), সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের অতল গহ্বরে।গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর তথ্য (Misinformation & Disinformation) ছড়ানোর অপকৌশল মানব ইতিহাসের এক প্রাচীন ব্যাধি। আদিম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকে শুরু করে আধুনিক বিশ্বযুদ্ধ-সবখানেই প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সাইবার-বাস্তবতায় এর বিস্তারের গতি ও ব্যাপ্তি ভৌগোলিক সীমানাকে অতিক্রম করে মহাজাগতিক রূপ ধারণ করেছে। এই ক্ষয়িষ্ণু প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও অত্যাধুনিক সংযোজন হলো ‘ডিপফেক’ (Deepfake) প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্যতম শাখা ‘ডিপ লার্নিং’ (Deep Learning) এবং জালিয়াতি বা ‘ফেক’ (Fake) শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রযুক্তি মূলত জেনারেটিভ অ্যাডভারসারিয়াল নেটওয়ার্কস (GANs) নামক শক্তিশালী অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর মাধ্যমে যেকোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির কণ্ঠস্বর (Voice Cloning), মুখাবয়ব (Facial Re-enactment) এবং দৈহিক অঙ্গভঙ্গি অবিকল নকল করে কৃত্রিম অডিও ও ভিডিও ফাইল প্রস্তুত করা হয়। এর ভয়াবহতা এখানেই যে, একজন ব্যক্তি যে কথা কখনো উচ্চারণ করেননি কিংবা যে কর্মকাণ্ডে কখনো লিপ্ত হননি, তাকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সেই দৃশ্যপটে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলস্বরূপ, টেক্সট বা লেখনীভিত্তিক গুজবের সনাতন যুগ পেরিয়ে মানবজাতি এখন প্রবেশ করেছে ‘অতি-বাস্তবসম্মত’ (Hyper-realistic) অডিও-ভিজুয়াল মিথ্যার এক গোলকধাঁধায়- যেখানে চোখের দেখা কিংবা কানের শোনাকেও আর ধ্রুব সত্য বলে মেনে নেওয়ার উপায় নেই।ডিপফেক এবং সিন্থেটিক মিডিয়ার (Synthetic Media) বিধ্বংসী প্রভাব আজ আর কোনো তাত্ত্বিক আশঙ্কা নয় বরং এক কঠোর ও নির্মম বাস্তব। আন্তর্জাতিক স্তরে এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের যে পরিসংখ্যান ও খতিয়ান পাওয়া যায়- তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ব্রুকিং ইনস্টিটিউশন (Brookings Institution) -এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্টারনেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা উৎপাদিত ভুয়া ও বিকৃত তথ্যের পরিমাণ প্রতি বছর প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রযুক্তি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘ডিপট্রেস’(Deeptrace) -এর এক বৈশ্বিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইন্টারনেটে লভ্য ডিপফেক ভিডিওর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে এবং এর একটি বিশাল অংশ সমাজ ও রাজনীতির স্থিতিশীলতা বিনষ্টের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।উন্নত দেশগুলোতে বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে ‘গুজব ও ডিপফেক’ আকাশচুম্বী তো বটেই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রযুক্তির এই নেতিবাচক জোয়ার থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাক্ট-চেকিং ও তথ্য-যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের (যেমন: রিউমর স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব, বিডি ফ্যাক্টচেক) বার্ষিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার রাজনৈতিক, ধর্মীয়, গোত্রীয় ও ব্যক্তিগত কুৎসাভিত্তিক গুজব ও ডিপফেক কনটেন্ট সনাতন ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বিগত সাধারণ নির্বাচনগুলোর সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করতে ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে চরিত্র হননের এক কুৎসিত সংস্কৃতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া, স্পর্শকাতর ধর্মীয় বিষয়ে ভুয়া অডিও ক্লিপ ও বিকৃত ছবি প্রচার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উসকে দেওয়ার একাধিক নারকীয় ঘটনা ঘটেছে- যা দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর এক প্রচণ্ড আঘাত।গবেষণাধর্মী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রযুক্তির উৎকর্ষের চেয়েও মানুষের আদিম মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাই গুজব ও ডিপফেক বিস্তারের প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT)-র গবেষকদের পরিচালিত একটি যুগান্তকারী মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বস্তুনিষ্ঠ সত্য খবরের তুলনায় একটি ভুয়া বা কাল্পনিক খবর ৬ গুণ দ্রুত মানবসমাজে পরিব্যপ্ত হয় এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের দ্বারা এটি ৭০ শতাংশ বেশি শেয়ার বা পুনঃপ্রচারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এর মূল কারণ হলো মানুষের ‘কনফার্মেশন বায়াস’ (Confirmation Bias) বা ‘নিশ্চিতকরণ পক্ষপাত’। মানুষ স্বভাবগতভাবেই সেই তথ্য বা বিবরণীকে অতি দ্রুত সত্য বলে গ্রহণ করে, যা তার নিজের পূর্বনির্ধারিত বিশ্বাস, অন্ধ আবেগ কিংবা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শের অনুকূলে যায়। ডিপফেক প্রযুক্তি মূলত মানুষের এই মনস্তাত্ত্বিক ফ্রন্টলাইনকেই আক্রমণ করে। যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘোর বিরোধী কোনো রাজনৈতিক চরিত্রের একটি চরম আপত্তিকর বা বিতর্কিত ভিডিও স্ক্রিনে দেখতে পান, তখন তার যৌক্তিক মস্তিষ্ক সেটির সত্যতা বা কারিগরি নির্ভুলতা যাচাই করার পূর্বেই মনস্তাত্ত্বিকভাবে সেটিকে সত্য বলে রায় দিয়ে দেয়। এই মানসিক অসচেতনতাই অপতথ্য ও কৃত্রিম মিথ্যার সাম্রাজ্যকে দিন দিন আরও শক্তিশালী করে তুলছে।সমাজ, রাষ্ট্র ও সামগ্রিক নৈতিকতার অবক্ষয়ে ডিপফেক- এর বহুমাত্রিক অভিঘাত লক্ষণীয়। যেমন- (১) গণতন্ত্রের সংকট ও জনমতের ভাঙন: ডিপফেক প্রযুক্তির অবাধ বিস্তারের ফলে যেকোনো রাষ্ট্রীয় নির্বাচন বা জাতীয় নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নির্বাচনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে কোনো প্রার্থীর এমন কোনো ভুয়া ও স্পর্শকাতর স্বীকারোক্তির ভিডিও প্রকাশ করা সম্ভব, যা জনমতকে সম্পূর্ণ উল্টো খাতে প্রবাহিত করতে পারে। পরবর্তীতে সেই ভিডিওর অসারতা প্রমাণিত হলেও, ততক্ষণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়ে যায়। (২) নারীর নিরাপত্তা ও জেন্ডারভিত্তিক সাইবার সহিংসতা: বিশ্বব্যাপী ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারের গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এর প্রায় ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রই হলো নারীর অনুমতিবিহীন পর্নোগ্রাফি বা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত। এই প্রযুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সমাজের প্রভাবশালী বা সাধারণ নারীদের সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার করা হচ্ছে- যা তাদের মৌলিক মানবাধিকার, মানসিক সুস্বাস্থ্য এবং সামাজিক মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। (৩) গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার সংকট ও ‘লায়ার্স ডিভিডেন্ড’: যখন নাগরিক সমাজ বুঝতে পারে যে অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রমাণাদিও কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব, তখন সমাজে এক চরম সংশয়বাদের জন্ম হয়। এর ফলে মূলধারার গণমাধ্যমের প্রকৃত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদকেও মানুষ সন্দেহ করতে শুরু করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘লায়ার্স ডিভিডেন্ড’ (Liar’s Dividend)- যেখানে প্রকৃত অপরাধীরাও নিজেদের বাস্তব অপরাধের ভিডিওকে ‘ডিপফেক’ বা ‘সাজানো’ বলে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।এই সর্বগ্রাসী সংকট থেকে উত্তরণের পথ কোনো একক ও সরল সমীকরণে আবদ্ধ নয়। এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্র, সমাজ এবং প্রযুক্তি খাতের এক সমন্বিত, বহুমাত্রিক ও কঠোর প্রতিরোধমূলক মহাপরিকল্পনা। যেমন- (ক) প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ (Algorithmic Countermeasures): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষাক্ত ছোবল থেকে বাঁচতে আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে হবে (AI vs AI)। মেটা, গুগল, ওপেনএআই-এর মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে- যাতে তারা এমন শক্তিশালী ওয়াটারমার্কিং এবং ক্রিপ্টোগ্রাফিক মেটাডেটা প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যার মাধ্যমে যেকোনো এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট ইন্টারনেটে আপলোড হওয়া মাত্রই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ডিপফেক’ হিসেবে চিহ্নিত বা ফ্ল্যাগড হয়ে যায়। (খ) আইনকাঠামোর আধুনিকায়ন ও কঠোর প্রয়োগ: বাংলাদেশের বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা আইন বা অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক আইনগুলোকে আরও সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী করতে হবে। বিশেষ করে ‘ডিপফেক জালিয়াতি’ ও ‘ডিজিটাল ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন’-কে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে- যাতে অপরাধীদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক ভীতির সৃষ্টি হয়। (গ) মূলধারার গণমাধ্যমের রূপান্তর ও ফ্যাক্ট-চেকিং সেল: মূলধারার সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে কেবল দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের প্রতিযোগিতায় না নেমে, তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিতকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি বড় গণমাধ্যমে একটি সুসজ্জিত এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘ফেক নিউজ ও ডিপফেক ডিটেকশন সেল’ থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত। (ঘ) ডিজিটাল লিটারেসি ও সামাজিক প্রতিরোধ: একটি সমাজকে ভেতর থেকে সচেতন না করলে কেবল আইন দিয়ে অপরাধ দমন অসম্ভব। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষা স্তরের পাঠ্যসূচিতে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ বা ‘তথ্য সাক্ষরতা’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সাধারণ নাগরিককে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার বা ফরওয়ার্ড করার পূর্বে ‘থিংক বিফোর ইউ লিঙ্ক’ (Think Before You Link) নীতি অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।ডিপফেক এবং গুজব কেবল প্রযুক্তির বিবর্তনের কোনো নিরীহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; এটি মূলত সত্যের চিরন্তন ধারণার ওপর এক সুপরিকল্পিত ও প্রাতিষ্ঠানিক আঘাত। আমরা যদি এখনই সামষ্টিক বুদ্ধিমত্তা, কঠোর আইনি কাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দিয়ে এই ইনফোডেমিক বা তথ্যের মহামারীকে রুখে দিতে না পারি, তবে অদূর ভবিষ্যতে মানবসভ্যতা এক অন্ধকার যুগে প্রবেশ করবে- যেখানে সত্য হবে আপেক্ষিক আর মিথ্যা হবে সর্বজনীন। সত্য ও মিথ্যার এই যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সত্যের পক্ষে লড়াই করাটা আজ কেবল কোনো নৈতিক দায়িত্ব নয় বরং এই ডিজিটাল মহাবিশ্বে আমাদের মানবিক অস্তিত্ব, বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখার এক চূড়ান্ত ও অনিবার্য সংগ্রাম।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বশরীরে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রতিমন্ত্রী টুকু
দৃষ্টি রিপোর্ট:প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধনের পর টাঙ্গাইলে সচেতনতামূলক র্যালি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের আঙিনা নিজ হাতে পরিষ্কার করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিজে ঝাড়ু হাতে নিয়ে এই মহতী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা নিজ হাতে পরিষ্কার করেন। একই সঙ্গে তিনি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস এবং অপ্রয়োজনীয় পানি জমার স্থানগুলো পরিষ্কার করার কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেন। এ সময় তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান।এর আগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেয়।পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ সময়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা কিংবা যেকোনো স্থানে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে সফল করতে সারা দেশে একই সঙ্গে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি নিজেরাও যদি যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করি, তাহলে এডিস মশার বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।এ সময় জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আব্দুল কুদ্দুছ, জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক খন্দকার সাদিকুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাঙ্গাইলে টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় দৈনিক ‘ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ’ এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের ভিআইপি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। টাইমস অব বাংলাদেশ এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সেলিম মিঞা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পূর্বাকাশ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান মোহাম্মদ খালেদ, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য জোটের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা লাবু, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ এর জেলা প্রতিনিধি মহিউদ্দিন সুমন ও গ্লোবাল টেলিভিশন এর টাঙ্গাইল প্রতিনিধি রুমি আক্তার পলি।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সাংবাদিকতা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত পেশা। তারা সমাজ ও দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। দেশ ও জাতির উন্নয়নে রাজনীতিবিদদের যেমন ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়, তেমনি সাংবাদিকরাও দিন-রাত দায়িত্ব পালন করেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে পাঠকের বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস ধরে রাখতে হলে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ, সব পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা এবং কোনো ধরনের পক্ষপাত এড়িয়ে চলা জরুরি। পরিবর্তিত সময়ে পাঠকের চাহিদা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টাইমস অব বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।তিনি বলেন, টাইমস অব বাংলাদেশ পত্রিকাটি আমি নিয়মিত পড়ি। পত্রিকাটির মেকআপ, গেটআপ ও গ্রাফিক্স ডিজাইন অন্য পত্রিকার চেয়ে ব্যতিক্রম। এক বছরে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পত্রিকাটি পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আগামী দিনে টাইমস অব বাংলাদেশ বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মাধ্যমে পাঠকের আস্থা অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।টাইমস অব বাংলাদেশ এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নাহিদ হোসেন বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে এক বছরে টাইমস অব বাংলাদেশ দল মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণির পাঠকদের কাছে ইতোমধ্যে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। পত্রিকাটির মেকআপ, গেটআপ ও গ্রাফিক্স ডিজাইন ইতিমধ্যে পাঠকদের কাছে যথেষ্ট সারা ফেলেছে। বর্তমানে তথ্য মন্ত্রণালয়ের ডিএফপির তালিকাভুক্ত তৃতীয় নম্বরে অবস্থান করছে টাইমস অব বাংলাদেশ।আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি সকল অতিথিদের সাথে নিয়ে পত্রিকাটির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন।
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ
দৃষ্টি নিউজ:টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরেরর বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির। প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শামসুন্নাহার স্বপ্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত।অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও নাহার চাকলাদার।প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, সাংবাদিকরা লেখনির মাধ্যমে সমাজকে পথ দেখায়। সমাজের সকল প্রকার অসঙ্গতি তুলে ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়তে সাংবাদিক ভাইরা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, গুজব সব সময় মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে, গুজব প্রতিহত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবারই সোচ্চার হতে হবে।পরে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমসে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে অতিথিরা পুরষ্কার তুলে দেন।
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কালিহাতীতে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত
কালিহাতী প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মহেলা গ্রামে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ‘মহেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহেলা রাবেয়া সিরাজ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ওই হাইভোল্টেজ খেলায় ভাবলা স্পোর্টিং ক্লাবকে টাইব্রেকারে ৯-৮ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে হিন্নাইপাড়া ফুটবল একাদশ।‘খেলাধুলায় বাড়ে মনোবল, মাদক ছেড়ে খেলতে চল’ স্লগোনে গ্রামবাসীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও যৌথ উদ্যোগে টুর্নামেন্টটির আয়োজন করা হয়।খেলার শুরু থেকেই উভয় দলের খেলোয়াড়দের নান্দনিক আক্রমণ ও পাল্টা-আক্রমণে পুরো মাঠ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। নির্ধারিত সময়ের খেলা সমতায় শেষ হলে ম্যাচটি গড়ায় রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে। চরম উত্তেজনাপূর্ণ পেনাল্টি শুটআউটে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেয় হিন্নাইপাড়া ফুটবল একাদশ। হাজারো দর্শকের মুহুর্মুহু করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো স্কুল প্রাঙ্গণ।ফাইনাল খেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া পরিষদের সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন।মহেলা রাবেয়া সিরাজ উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আলহাজ্ব নূর বাদশা সরকারের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এলেঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. শাফি খান, এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালযয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক হিরো, সহদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাসুদুর রহমান বালা।অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, এলেঙ্গা পৌর যুবদলের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন। খেলায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ক্রীড়ামোদীরা উপস্থিত ছিলেন ।
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এ সপ্তাহের রাশিফল
দৃষ্টি রিপোর্ট:সাফল্য লাভের জন্য কর্ম যথেষ্ট নয়। দরকার সঠিক কর্মকৌশল, সহনশীলতা এবং কিছু বিষয়ে সচেতনতা। আর তাতেই আপনি জীবনের প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তর করতে পারবেন। পাশ্চাত্য রাশিচক্র মতে চন্দ্র ও অন্যান্য গ্রহগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে চলতি সপ্তাহের বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের নানা বিষয়ের শুভাশুভ পূর্বাভাস ও সতর্কতা জানাচ্ছেন জ্যোতিষশাস্ত্রী ড. চিন্ময় চৌধুরী মিথুন-মেষ রাশি (২১ মার্চ - ২০ এপ্রিল): পেশাগত কাজে মানসিক অস্থিরতা বাড়বে। আর্থিক দিক থেকে সমৃদ্ধ থাকবেন। পেশাগত বিষয়ে সফলতা আসার সম্ভাবনা আছে। প্রতিযোগিতামূলক কাজে সফলতা পাবেন। সহকর্মীর সহযোগিতা পেতে পারেন। রোমান্টিক যোগাযোগ শুভ।বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল - ২১ মে): পারিবারিক পরিবেশ আপনার অনুকূলে থাকবে। প্রেম ও রোমাঞ্চ শুভ। নেতিবাচক চিন্তাভাবনা পরিহার করুন। ব্যবসা-বাণিজ্যে লোকসান হতে পারে। শত্রু সম্পর্কে সচেতন হোন। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে।মিথুন রাশি (২২ মে - ২১ জুন): পেশাগত সফলতা পাবেন। ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়বে। আর্থিক ভাগ্য বেশ সুপ্রসন্ন। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য অনুকূল সময়। প্রেম ও রোমাঞ্চ শুভ। নেতিবাচক চিন্তাভাবনা পরিহার করুন।কর্কট রাশি (২২ জুন - ২৩ জুলাই): আর্থিক ভাগ্য বেশ সুপ্রসন্ন। কারো কারোর চাকরি লাভের সম্ভাবনা আছে। দূর থেকে শুভ সংবাদ পাবেন। ঘনিষ্ঠ কারো আচরণে মানসিক কষ্ট পেতে পারেন। প্রেমের জন্য এ সপ্তাহটি উষ্ণ। তবে নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। পেশাগত কাজে মতবিরোধ থাকবে।সিংহ রাশি (২৩ জুলাই - ২৩ আগস্ট): পেশাগত কাজে সফলতা আসবে। সামাজিক কাজে সুনাম পাবেন। রাগ, জেদ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। যানবাহন চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করুন। আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে মনোমালিন্য বাড়তে পারে। প্রেমের ক্ষেত্রে সুখ-শান্তি, মতবিরোধ সবই চলবে এ সপ্তাহে।কন্যা রাশি (২৪ আগস্ট - ২৩ সেপ্টেম্বর): অংশীদারি ব্যবসায়যুক্তদের জন্য ভালো সময়। দাম্পত্য জীবনে সুখ অনুভব করবেন। অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে মানসিক চাপ অনুভব করবেন। প্রিয়জনের সঙ্গে সন্দেহমূলক আচরণের জন্য দূরত্ব তৈরি হতে পারে। শারীরিকভাবে অসুস্থতা বোধ করতে পারেন। ভ্রমণ শুভ।তুলা রাশি (২৪ সেপ্টেম্বর - ২৩ অক্টোবর): আপনার সুনাম ও মর্যাদা বাড়বে। কর্মসূত্রে লাভবান হবেন। পারিবারিক বিষয় নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। যানবাহন চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করুন। বৈদেশিক সূত্রে লাভবান হবেন। শারীরিকভাবে অসুস্থতা বোধ করতে পারেন।বৃশ্চিক রাশি (২৪ অক্টোবর - ২২ নভেম্বর): একাকীত্ব অনুভব করবেন। আর্থিক বিষয়ে সফলতা আসবে। কর্পোরেট কাজে সফলতা পাবেন। শারীরিকভাবে অসুস্থতা বোধ করতে পারেন। প্রেমে ভুল বোঝাবুঝি বাড়বে। পারিবারিক বিষয়ে নমনীয়তা প্রয়োজন। অমিতব্যয়ীয়তার কারণে দুশ্চিন্তা বাড়বে।ধনু রাশি (২৩ নভেম্বর - ২১ ডিসেম্বর): আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তখন গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত উত্তেজিত অবস্থায় নেয়া ঠিক হবে না। ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। লেনদেনে আরো সতর্ক হওয়া উচিত। শারীরিক বিষয়ে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। পেশাগত কাজে সফলতা পাবেন।মকর রাশি (২২ ডিসেম্বর - ২০ জানুয়ারি): আর্থিক যোগাযোগ শুভ। প্রিয়জনের সঙ্গে মান অভিমান বাড়বে। মানসিক প্রশান্তির জন্য ধ্যান, যোগব্যায়াম করুন। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সফলতা পাবেন। অনেকে দূর ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।কুম্ভ রাশি (২১ জানুয়ারি - ১৮ ফেব্রুয়ারি): অর্থ সম্পদের সঠিক ব্যবহার করুন। ধৈর্য ও সহিষ্ণু আচরণের জন্য কর্মজীবনে সফলতা পাবেন। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। সম্পর্কে কিছু টানাপড়েন থাকবে। শারীরিকভাবে কিছুটা সমস্যায় থাকতে পারে। সুস্বাস্থ্যের জন্য সঠিক ডায়েট মেনে চলুন। ভ্রমণ শুভ।মীন রাশি (১৯ ফেব্রুয়ারি - ২০ মার্চ): পেশাগত কাজে মানসিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। পারিবারিক জীবনে প্রাণবন্ত থাকার চেষ্টা করুন। আত্মকেন্দ্রিক লোকদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়বে। ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হবে।শারীরিক সুস্থতার জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঠেলাগাড়ি উল্টে চালক নিহত
কালিহাতী প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের কালিহাতী-রতনগঞ্জ সড়কে সেতু থেকে নামার সময় লাকড়ি বোঝাই ঠেলাগাড়ি উল্টে চালক আলমাস আলী (৫০) নিহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের রতনগঞ্জ বাজার সেতুতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আলমাস আলী সখীপুর উপজেলার আমতৈল গ্রামের বাসিন্দা।স্থানীয়রা জানায়, জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে রতনগঞ্জ বাজারের নতুন সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে পাশের পুরোনো সেতুর আংশিক ঢালু অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। শনিবার সকালে আলমাস আলী লাকড়ি বোঝাই ঠেলাগাড়ি ঠেলে রতনগঞ্জ বাজারে যাচ্ছিলেন। সেতু দিয়ে নামার সময় হঠাৎ ঠেলাগাড়িটি উল্টে গেলে তিনি ওই ঠেলাগাড়ির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ বিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। আলমাস আলী সখীপুরে মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে একজন অফিসার পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টাঙ্গাইলের চমচম যাবে বিদেশে
বুলবুল মল্লিক:জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশ্বখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ি, শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী পোড়াবাড়ির চমচম এবং স্থানীয় কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্র্যান্ডিং করার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ওই জমকালো উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে ওই ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তাঁতশিল্পের প্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো পৌর উদ্যানকে সাজানো হয়েছে এক অপরূপ সাজে। সারিবদ্ধ ২২টি স্টলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে টাঙ্গাইলের আদি ও আসল ঐতিহ্যের ছোঁয়া। মিষ্টিপ্রেমীদের জিভে জল আনতে স্টলে স্টলে শোভা পাচ্ছে কিংবদন্তিতুল্য পোড়াবাড়ির চমচম, রসালো রসমালাই, রসে টইটম্বুর কালোজাম এবং যুগ যুগ ধরে প্রসিদ্ধ দই-সন্দেশসহ নানা পদের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। মেলায় আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে জিআই স্বীকৃতি পাওয়া বিশ্বখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়ি। এছাড়া তাঁতি ও কারিগরদের তৈরি নান্দনিক হস্তশিল্প এবং স্থানীয় কুটির শিল্প পণ্যের প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করছে।উদ্বোধনের পর সময় গড়ানোর সাথে সাথে মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বিকাল থেকেই পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জনদের নিয়ে মেলায় ছুটে আসেন হাজারো মানুষ। উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যান।মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জানান, একই ছাদের নিচে টাঙ্গাইলের খাঁটি ও বিখ্যাত সব মিষ্টির স্বাদ নেওয়ার এবং ঐতিহ্যবাহী শাড়ি দেখার এই সুযোগ সত্যি প্রশংসনীয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে টাঙ্গাইলের শতবর্ষী ইতিহাস তুলে ধরতে এই আয়োজন দারুণ ভূমিকা রাখছে।আয়োজকদের মতে, এই সুইট ফেস্টিভ্যাল কেবল একটি মেলা নয়; এটি টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার এক অনন্য মিলনমেলা। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা মিষ্টি প্রস্তুতকারক, কারিগর, তাঁতশিল্পী ও তরুণ উদ্যোক্তারা এখানে তাদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও টাঙ্গাইলের পণ্যের এক বিশাল দুয়ার উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী ওই প্রাণের উৎসব আগামি ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, টাঙ্গাইল একটি ভীষণ সম্ভাবনাময় জেলা। এই জেলার পর্যটন সম্ভাবনা অফুরন্ত। সেই সম্ভাবনাকে পূর্ণতা দিতে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে- যার অন্যতম সুইট ফেস্টিভ্যাল।তিনি জানান, এ উৎসবের তিনটি প্রধান লক্ষ্য হলো ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল হিসেবে শতবর্ষী মিষ্টি শিল্পকে বিশ্বে তুলে ধরা, ঐতিহ্যকে ধারণ করে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারের মাধ্যমে জেলার অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও টাঙ্গাইল শাড়ি শুধু এ জেলার নয়, বরং বাংলাদেশের গর্ব। টাঙ্গাইলের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চমচমকে বিদেশে রপ্তানির পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। স্থানীয় শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিকাশে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কোয়কা প্রকল্প সম্প্রসারণ বিষয়ে মতবিনিময়
আনোয়ার হোসেন নয়ন:টাঙ্গাইল সিভিল সার্জনের সম্মেলন কক্ষে কোয়কা প্রকল্পের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (NCD) প্রকল্প রিভিউ মিটিং এবং প্রকল্প সম্প্রসারণ বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, কোয়কা প্রকল্প কর্মকর্তা ডা. লিম। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. এফএম মাহবুবুল আলম মঞ্জুর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক, কো-অরডিনেটর মেডিকেল অফিসার ডা. আবু জাফর এবং মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন, মি. লিপস মৃ।বক্তারা বলেন, অসংক্রামক রোগ (NCD) নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প রিভিউ মিটিং এবং প্রকল্প সম্প্রসারণ বিষয়ক মতবিনিময় সভা দেশের স্বাস্থ্য খাতের টেকসই উন্নয়নে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ে এই সেবা পৌঁছে দিতে প্রকল্প সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।সভায় রোগীরা হাসপাতালে আসার পর কীভাবে ধাপে ধাপে তাদের সেবা নিশ্চিত করা হবে- সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।টাঙ্গাইল জেলার ১২ টি উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও মেডিকেল অফিসাররা মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পিকআপভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ যমুনায় ফেলার সময় চালক আটক
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পিকআপভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ প্রায় কোটি টাকার সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলতে গিয়ে চালক আজমতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। বুধবার (২৬ আগস্ট) মধ্যরাতে উপজেলার গোবিন্দাসী টি রোড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।স্থানীয়রা জানায়, বুধবার দিনগত মধ্যরাতে একটি মালবোঝাই পিকআপ গোবিন্দাসীর টি রোডের কালা সড়ক ধরে যুমনা নদীর দিকে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করছিল। ওষুধগুলো নদীতে ফেলে দেওয়ার প্রস্তুতিকালে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। এসময় চালক আজমত আটক হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক পিকআপ ও চালককে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন তারা।আটক পিকআপ চলক ও মালিক আজমতের দাবি, পিকআপ ভর্তি ওষুধগুলো টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা সরকারি হাসপাতালের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেলে দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এরআগেও ঘাটাইলের বনাঞ্চলের গভীরে নিয়ে হাসপাতালের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো ফেলে দিয়েছিলেন। এবারও একইভাবে ওষুধগুলো ফেলে দেওয়ার জন্য তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেল ওষুধগুলো তাদের হাসপাতালের বলে স্বীকার করেছেন এবং এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) একেএম রেজাউল করিম জানান, জনগণ ওষুধ ও পিকআপ আটক করেছে। পরে পুলিশে সোপর্দ করলে থানায় নিয়ে আসা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২৭ আগস্ট ২০২৬
দুর্গম শুশুয়াচরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের দুর্গম শুশুয়াচরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(২২ আগস্ট) দিনব্যাপী যমুনা নদীর চরাঞ্চল ভূঞাপুরের অর্জুণা ইউনিয়নের শুশুয়াচরে হিউম্যান কনসার্ন আমেরিকার উদ্যোগে ওই মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ-শিশুদের অভিজ্ঞ ও দক্ষ চিকিৎসকদের মাধ্যমে সাধারণ রোগ, নারী ও শিশু রোগ, চর্ম ও যৌন রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ওজন পরিমাপসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।এদিন দুপুরে দুর্গম শুশুয়াচরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন করেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার সামি হামদি, হিউম্যান কনসাল্ট ইন্টারন্যাশনাল গ্লোবাল সিইও মাহমুদা খান, হিউম্যান কনসার্ন আমেরিকার সিইও মাসুম মাহবুব। এসময় আন্তর্জাতিক ও জাতীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ৭০ বছরের বৃদ্ধ বছির খা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা হাতের পাখনায় ব্যথায় ভুগছি। ডাক্তার দেখানোর জন্য নৌকাপাড়ি দিয়ে ভূঞাপুর কিংবা সিরাজগঞ্জ যেতে হয়। আজকে এখানে বিনামূল্যে ডাক্তার দেখলাম এবং ওষুধ পেলাম। খুব ভালো লাগছে।৬০ বছরের বৃদ্ধা জরিনা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোমরও পায়ের ব্যাথা রয়েছে। টাকার অভাবে শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে পারি নাই। আজকে বিনামূল্যে ডাক্তার দেখলাম। একইসঙ্গে ওষুধও দেওয়া হয়েছে।মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সোনিয়া ইসলাম ফারিন বলেন, ২-৩ বছর ধরে আমি কোমর ও পেটের ব্যথায় ভুগছি। কোনো ডাক্তার দেখিয়েও ব্যথা কমেনি- তাই আজকে এখানে ডাক্তার দেখাতে এসেছি।হিউম্যান কনসার্ন আমেরিকার সিইও মাসুম মাহবুব বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ। ভূঞাপুর উপজেলার দুর্গম চরের গ্রামগুলোতে তেমন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নেই। সে হিসেবে আমরা চিন্তা করলাম কীভাবে এসব মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া যায়। তারই ধারাবাহিকতায় ভূঞাপুরে দুর্গমচরে ৪টি গ্রামে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। প্রথমদিন আজকে চরশুশুয়া গ্রামের ৩০০ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।
২২ আগস্ট ২০২৬
বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনাই মুক্তির দূত
:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল ::২০২৬ সালের বিশ্ব রাজনীতি ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চালচিত্র এক গভীর ও অভূতপূর্ব রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের তীব্র প্রভাব প্রমাণ করেছে সনাতন ধারার আবেগসর্বস্ব ও স্লোগানভিত্তিক রাজনীতি এখন সম্পূর্ণ কার্যকারিতা হারিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার, জলবায়ু বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক নব্য-বাস্তবতার এই যুগে বাংলাদেশের টিকে থাকা এবং এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করছে সম্পূর্ণ নতুন এক রাজনৈতিক দর্শনের ওপর। বর্তমান বাস্তবতায় আবেগ নয় বরং বিজ্ঞানমনস্ক, দূরদর্শী এবং গবেষণানির্ভর ‘বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনা’-ই সংকটের গোলকধাঁধা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ। বিশ্ব রাজনীতিতে এখন চলছে তীব্র মেরুকরণ। পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত যুদ্ধ উন্নয়নশীল দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক প্রভাবের বাইরে নয়। এই অবস্থায় কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা বা ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করা অসম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন গভীর কৌশলগত বিশ্লেষণ, দক্ষ কূটনীতি এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক নীতি নির্ধারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হলে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি দাঁড়াতে হলে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে গবেষণালব্ধ। অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের প্রচলিত কর্মসংস্থান কাঠামোকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সনাতন শ্রমশক্তির ওপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার দিন শেষ। এখন প্রয়োজন মেধা-ভিত্তিক অর্থনীতি ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি এই প্রযুক্তিগত রূপান্তরকে বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে জাতি হিসেবে আমরা এক বিশাল বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার মুখে পড়ব। বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনা এখানে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কারিগরি দক্ষতার উন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কৌশল তৈরিতে পথ দেখাবে। তদুপরি, মহামারী-উত্তর অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আমাদের নব্য-বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। বাজেট প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাজার নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে বৈদেশিক ঋণের ব্যবস্থাপনা- সব ক্ষেত্রেই আবেগতাড়িত সিদ্ধান্তের কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি খাতের নীতি নির্ধারণে বিশেষজ্ঞদের মতামতের প্রতিফলন এবং ডেটা-চালিত (data-driven) সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।চলতি ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি- আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য কেবল সামরিক শক্তিতে নয় বরং প্রযুক্তি, তথ্য ও অর্থনৈতিক কৌশলের ওপর নির্ধারিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের সস্তা শ্রমের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে মেধা ও দক্ষতার ওপর জোর দিতে হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে জেনারেটিভ এআই এবং রোবোটিক অটোমেশনের কারণে শ্রমবাজার দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। যে সব দেশ প্রযুক্তির এই গতিপ্রকৃতি বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে- তারা তীব্র অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়ছে। দেশের ভেতরে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে তুঙ্গে। সমকালীন তরুণ সমাজ সস্তা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির চেয়ে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং কর্মসংস্থানের বাস্তবমুখী ও প্রায়োগিক রূপরেখা দেখতে চায়।টেকসই উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মেধাভিত্তিক ও তথ্য-উপাত্তনির্ভর রোডম্যাপের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান তিনটি চালিকাশক্তির নিরিখে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা যেতে পারে- ক) আইটি সেক্টর: চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও মেধার বিশ্বায়নে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এখন সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তিনির্ভর। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) সাম্প্রতিক সমীক্ষা ও ২০২৬ সালের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ফলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও করপোরেট খাতের প্রায় ২৫% মধ্যম সারির চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়বে, যদি না আমরা দ্রুত দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারি। প্রতিবেশী দেশ ভারতের বেঙ্গালুরু যেখানে বার্ষিক আইটি রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করেছে, সেখানে বাংলাদেশের আইটি রপ্তানি এখনো ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বৃত্তে আটকে আছে। দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০,০০০ আইটি গ্র্যাজুয়েট বের হলেও, বৈশ্বিক চাহিদার সাথে কারিকুলামের অমিলের কারণে প্রায় ৪২% গ্র্যাজুয়েট সরাসরি আন্তর্জাতিক মানের কাজ পাওয়ার যোগ্যতা হারাচ্ছেন। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় এজেন্ডায় এআই গভর্ন্যান্স, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি এবং সেমিকন্ডাক্টর মাইক্রোচিপ ডিজাইনে রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন বাড়ানো জরুরি। ভারতের আইআইটি (IIT) বা সিলিকন ভ্যালির আদলে বিশেষায়িত টেক-হাব তৈরি করে তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং থেকে উদ্যোক্তায় রূপান্তর করার মহাপরিকল্পনা নিতে হবে।খ) বৈদেশিক রেমিট্যান্স: বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রধানতম উৎস হলো প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। তবে গত কয়েক দশক ধরে অনুসৃত ‘শুধু অদক্ষ শ্রমিক’ পাঠানোর কৌশল ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বাস্তবতায় সম্পূর্ণ অকার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো (যেমন- সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০) এখন মেগা সিটি, পর্যটন ও হাই-টেক প্রজেক্টের দিকে ঝুঁঁকছে, যার ফলে সেখানে সাধারণ নির্মাণ শ্রমিকের চাহিদা দ্রুত কমছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ৭ থেকে ৮ লাখ শ্রমিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে পাড়ি দিলেও তাদের প্রায় ৭৫% থেকে ৮০% সম্পূর্ণ অদক্ষ। ফলে ফিলিপাইন বা শ্রীলঙ্কার একজন দক্ষ নার্স, প্রকৌশলী বা আইটি কর্মী যেখানে প্রতি মাসে গড়ে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ ডলার দেশে পাঠান, সেখানে একজন বাংলাদেশি সাধারণ শ্রমিক কঠোর পরিশ্রম করেও পাঠাতে পারেন মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার। আমাদের রেমিট্যান্স নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে নার্সিং, কেয়ার-গিভিং, আধুনিক ড্রাইভিংসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রযুক্তিতে ডিপ্লোমাধারী দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করতে হবে। মেধাভিত্তিক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নতুন নতুন উন্নত দেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করাই হবে আগামী দিনের রেমিট্যান্স সুরক্ষার মূল চাবিকাঠি। মুদ্দা কথা, অদক্ষ শ্রমের অবসান করে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।গ) কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে। অসময়ী বন্যা, দীর্ঘায়িত খরা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ দেশের খাদ্য উৎপাদনকে ক্রমাগত হুমকির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রতি বছর দেশে আবাদি কৃষি জমি কমছে প্রায় ০.৫% হারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, স্মার্ট ও প্রিসিশন এগ্রিকালচার (Precision Agriculture) তথা প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা অনতিবিলম্বে প্রবর্তন না করলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে প্রধান দানাদার শস্যের উৎপাদন ৮ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। এটি ১৭ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁঁকিতে ফেলবে। নেদারল্যান্ডসের মতো একটি ক্ষুদ্র দেশ যেখানে শুধু বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা, গ্রিনহাউস প্রযুক্তি এবং ডাটানির্ভর চাষাবাদের মাধ্যমে আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে, আমাদেরও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে।ড্রোনের মাধ্যমে সার ও কীটনাশক ছিটানো, আইওটি (IoT) সেন্সর দিয়ে মাটির আর্দ্রতা মাপা এবং লবণাক্ততা ও খরা-সহিষ্ণু হাইব্রিড জাতের বীজ উদ্ভাবনে গবেষণাগারে বরাদ্দ দ্বিগুণ করতে হবে। রাজনীতি কেবল ক্ষমতা কেন্দ্রিক কৌশল বা জনসভার সস্তা করতালির মাধ্যম নয়; আধুনিক যুগে রাজনীতি হলো রাষ্ট্রপরিচালনা ও জনকল্যাণের সর্বোচ্চ বিজ্ঞান। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অস্তিত্ব রক্ষা এবং রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনটি বুদ্ধিবৃত্তিক স্তম্ভ অত্যন্ত জরুরি। যেমন- ১. থিঙ্ক-ট্যাংক সংস্কৃতি (গবেষণা ও তথ্যনির্ভর পলিসি), ২. যাগ্যতার মূল্যায়ন (মেধাবীদের নীতি-নির্ধারণে আনা) এবং ৩. প্রযুক্তি-বান্ধব সুশাসন (দুর্নীতিমুক্ত ডিজিটাল সেবা)। থিঙ্ক-ট্যাংক সংস্কৃতির বিকাশ: রাজনৈতিক দলগুলোকে পেশী শক্তি ও ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা উইং বা ‘থিঙ্ক-ট্যাংক’ গড়ে তুলতে হবে। উন্নত বিশ্বের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, আইটি বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশবিদদের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় পলিসি খসড়া তৈরি করতে হবে। যোগ্যতার মূল্যায়ন (Meritocracy): নীতিনির্ধারণী ও সংসদীয় পর্যায়ে চাটুকারিতা কিংবা আর্থিক লেনদেনের বদলে খাঁটি মেধা, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। মেধার সঠিক মূল্যায়ন না হলে রাষ্ট্র পরিচালনার চাকা স্থবির হয়ে পড়ে। প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ সুশাসন: সরকারি ও প্রশাসনিক সব ধরনের সেবা সম্পূর্ণভাবে ব্লকচেইন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এতে একদিকে যেমন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি হ্রাস পাবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ হবে। এই রূপান্তরের জন্য তীব্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সাহসের প্রয়োজন।বর্তমানে জটিল ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং অর্থনৈতিক সমীকরণের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে আবেগ কিংবা তাৎক্ষণিক লোকদেখানো সস্তা সিদ্ধান্ত দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সংকট দূর করা অসম্ভব। অতীতে ভুল পরিকল্পনার মাশুল এই জাতিকে বহু বছর ধরে গুনতে হয়েছে। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের ভাগ্য সুনিশ্চিত করতে হলে আমাদের রাজনীতিকে হতে হবে জ্ঞানভিত্তিক এবং রাষ্ট্রপরিচালনাকে হতে হবে দূরদর্শী ও বিজ্ঞানমনস্ক। মেধার সঠিক মূল্যায়ন এবং সুপরিকল্পিত রোডম্যাপের মাধ্যমেই বাংলাদেশ একটি স্বাবলম্বী, অর্থনৈতিকভাবে উন্নত এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারবে। তাই সময় ও ইতিহাসের অমোঘ দাবি মেনে দ্বিধাহীনভাবে বলা যায়- চলমান সব সংকটের আবর্তে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনাই মুক্তির একমাত্র দূত’।লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
২০ আগস্ট ২০২৬
প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর খেলার উদ্বোধন
দৃষ্টি রিপোর্ট:টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর খেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে প্রিণ্ট মিডিয়ার বটতলাস্থ কার্যালয়ে ওই খেলার আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সাংবাদিক মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, সহ-সভাপতি আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি রঞ্জন কৃষ্ণ পন্ডিত, সাধারণ সম্পাদক দৈনিক আগামীর সময় ও বিজয় টিভির টাঙ্গাইল প্রতিনিধি আবু জুবায়ের উজ্জ্বল, যুগ্ম-সম্পাদক এশিয়া টেলিভিশনের সাংবাদিক শফিকুজ্জামান খান মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক ঢাকা প্রতিদিন ও ইসলামিক টিভির সাংবাদিক ইমরুল হাসান বাবুসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে খেলাধুলার আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইনডোর খেলা সাংবাদিকদের মানসিক প্রশান্তি ও শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।পরে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে খেলার বিভিন্ন ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।
১৮ আগস্ট ২০২৬
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত
ধনবাড়ী প্রতিনিধি:টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের বর্ধিতসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের কার্যালয়ে ওইসভা অনুষ্ঠিত হয়।ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের সভাপতি কবি ইমাম হাসান সোহানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সভাপতি এম. মাছুদুর রহমান মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি আল আমিন শোভন, জেলা ইউনিটের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী।অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা এলেঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ শিকদার, ঘাটাইল উপজেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সোহেল, ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি মো. রমজান আলী ও সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, মো. সোলায়মান।দ্বিতীয় পর্বে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কবি ইমাম হাসান সোহানকে সভাপতি ও রাকিব হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি গঠন করা হয়।এ সময় মধুপুর ও ধনবাড়ী ইউনিটের সকল সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১৩ আগস্ট ২০২৬
কালিহাতী রিপোর্টার্স ক্লাবের আত্মপ্রকাশ
কালিহাতী প্রতিনিধি: নতুন উদ্যম ও প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কালিহাতী রিপোর্টার্স ক্লাব। এ উপলক্ষে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জের চায়না বাঁধ এলাকায় আয়োজিত এক আনন্দঘন বনভোজন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সংগঠনের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির আত্মপ্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সর্বসম্মতিক্রমে মনিরুজ্জামান মতিনকে সভাপতি এবং কামরুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন- সহ-সভাপতি কামরুল হাসান মিয়া (ডেইলি অবজারভার) ও রাইসুল ইসলাম লিটন (যায়যায়দিন), সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা (প্রতিদিনের বাংলাদেশ), যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলম (মানবজমিন), সাংগঠনিক সম্পাদক শুভ্র মজুমদার (ঢাকা পোস্ট ৭১), কোষাধ্যক্ষ মো. শাহ আলম (কালবেলা), ক্রীড়া সম্পাদক নুর নবী রবিন (বাংলাদেশের আলো), তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম (দৈনিক নিরপেক্ষ), আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. আশিক (দেশ প্রতিদিন) এবং দপ্তর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন (বাংলার সময়)। কার্যকরী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন- মীর আনোয়ার হোসেন (সমকাল), আবুল কালাম আজাদ (ভোরের কাগজ), তারেক আহমেদ (যুগান্তর), মেহেদী হাসান চৌধুরী (আনন্দ টিভি) ও মুশফিকুর রহমান মিল্টন (রূপালী বাংলাদেশ)। এছাড়া সম্মানিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন, গৌরাঙ্গ বিশ্বাস (সময়ের প্রত্যাশা), রঞ্জন কৃষ্ণ পণ্ডিত (আলোকিত বাংলাদেশ), দুলাল হোসেন রানা (সাপ্তাহিক পাপিয়া), শাহ আলম (দৈনিক গণকণ্ঠ), সাব্বির আহমেদ আব্বাসী (দৈনিক নবচেতনা), আতোয়ার রহমান মিয়া (ভোরের দর্পণ), আব্দুস সাত্তার (ভোরের পাতা) এবং ইমরুল হাসান বাবু (ইসলামিক টিভি)। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পেশাদার সাংবাদিকতার বিকাশ, সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে কালিহাতী রিপোর্টার্স ক্লাব কাজ করবে। একই সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরতে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
২৪ জুলাই ২০২৬
সাংবাদিক নিবন্ধন : সময়ের দাবি, তবে....
:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল :: গুরু নির্ভর পেশা সাংবাদিকতা, সাংবাদিক তৈরি করা যায়না- যুগে যুগে সময়ে সময়ে সময়ের প্রয়োজনে সাংবাদিকরা জন্ম নেয়। তারা কোনো কারখানায় উৎপাদিত পণ্য নয় বরং ইতিহাসের গর্ভ থেকে উঠে আসা একেকজন অবাধ্য দ্রোহী। লুইজি পিরানদেল্লোর নাটকের চরিত্রের মতো তারা যেন হঠাৎ করেই ইতিহাসের মঞ্চে আবির্ভূত হয়, সমাজকে তার নিজের আসল মুখচ্ছবি দেখাতে। কিন্তু আজকের পচাগলা সময়ে আমরা চারপাশে কী দেখছি? চারদিকে এক অদ্ভুত ও কুৎসিত অন্ধকার। হাতের মুঠোয় একটা সস্তা স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের ডেটা প্যাক থাকলেই রাতারাতি নিজেকে ‘সাংবাদিক’ বলে জাহির করার এক আত্মঘাতী, উন্মত্ত মহোৎসব চলছে। হাল সময়ে সাংবাদিকতার নামে মোবাইল ফোন হাতে যাদের অলিতে-গলিতে, চায়ের দোকানে কিংবা দুর্ঘটনার ভিড়ে দেখা যায়, তাদেরকে ‘মোজো সাংবাদিক’ বা মোবাইল জার্নালিস্ট আখ্যা দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে মূলধারার সাংবাদিক হিসেবে হালাল করার এক বিপজ্জনক অপচেষ্টা চলছে। একজন সাংবাদিক হিসেবে স্পষ্টাক্ষরে, কোনো রকম দ্বিধাদ্বন্দ্ব না রেখে বলতে চাই- নিশ্চিতভাবেই তারা ‘সাংবাদিক’ নন। সাংবাদিকতা কোনো যান্ত্রিক কসরত বা স্রেফ বোতাম টেপার চাতুর্য নয়, এটি একটি সুদীর্ঘ সাধনা, একটি আজীবন লালিত আদর্শিক তাড়না। বর্তমানের এই নৈরাজ্যিক ও বিশৃঙ্খল অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই শিক্ষাগত যোগ্যতার একটা ন্যূনতম মাপকাঠির প্রয়োজন আজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এই নির্মম পটভূমিতেই ‘সাংবাদিক নিবন্ধন’ বিষয়টি আজ সময়ের তীব্র ও অলঙ্ঘনীয় দাবি হিসেবে আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে এই দাবির সমান্তরালে লুকিয়ে আছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কিছু গভীর ক্ষত, সংশয় ও জটিল সমীকরণ- যা নির্মোহভাবে উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি। একদা যে পেশা ছিল সমাজের বাতিঘর, শোষিতের শেষ আশ্রয়স্থল, আজ তা এক শ্রেণির অপেশাদার, সুবিধাবাদী, চাঁদাবাজ ও ব্ল্যাকমেইলারদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে, মফস্বলে, এমনকি খোদ রাজধানীর রাজপথেও ‘সাংবাদিক’ পরিচয়টি আজ শ্রদ্ধার চেয়ে ভয়ের এবং আস্থার চেয়ে সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথাকথিত ‘মোজো সাংবাদিকতা’র নামে ব্যক্তিচরিত্র হনন, ভুঁইফোড় ফেসবুক পেজ ও কতিপয় পোর্টালের মাধ্যমে দিনরাত গুজব ছড়ানো এবং হলুদ সাংবাদিকতার যে নগ্ন বিস্তার আমরা দেখছি, তা রুখতে একটি রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। প্রকৃত সাংবাদিকরা যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, খেয়ে না-খেয়ে, বুলেটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সত্যের সন্ধান করেন, তাদের মর্যাদা আজ ভূলুণ্ঠিত। নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর মাধ্যমে আসল এবং নকলের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট বিভাজন রেখা টানা আজ সময়ের দাবি। একজন চিকিৎসক, প্রকৌশলী বা আইনজীবীর যেমন একটি নির্দিষ্ট একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও লাইসেন্স লাগে, সাংবাদিকতায়ও ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা উচিত। ভাষা, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও আইন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা না থাকলে সমাজের জটিল ক্ষত নিরূপণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অবাধ স্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা বা লম্পট্য চলতে পারে না। নিবন্ধিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সাংবাদিকদের একটি নির্দিষ্ট জাতীয় আচরণবিধির (Code of Conduct) আওতায় আনা সম্ভব হবে- যা সাধারণ মানুষকে মিডিয়া ট্রায়াল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের হাত থেকে রক্ষা করবে। সঠিক উপায়ে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত এবং সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত নিরপেক্ষভাবে যদি সাংবাদিকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, তবে এর সুফল হবে সুদূরপ্রসারী; মাঠপর্যায়ের প্রকৃত ও সৎ সংবাদকর্মীরা প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবেন। পরিচয়পত্র বা অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের অপব্যবহার কমলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের কাছে সাংবাদিকদের গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়বে। নিবন্ধিত সাংবাদিকদের একটি জাতীয় ডেটাবেজ থাকলে মিডিয়া কর্পোরেট বা মালিকপক্ষের পক্ষে সাংবাদিকদের হুট করে ছাঁটাই করা বা বছরের পর বছর বকেয়া বেতন না দিয়ে পার পাওয়া কঠিন হবে। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন তখন আইনি বাধ্যবাধকতায় রূপ নেবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া ও উসকানিমূলক খবরের দৌরাত্ম্য নিমেষেই কমে যাবে। সাধারণ মানুষ সহজে জানতে পারবে কোন উৎসটি দায়িত্বশীল এবং কোনটি সমাজের জন্য বিষাক্ত। যে কোনো ভালো উদ্যোগের পেছনেই আমাদের এই উপমহাদেশে থাকে ক্ষমতার লোভ আর অপব্যবহারের কালো কুৎসিত ছায়া। ‘তবে...’ শব্দের ভেতরের মূল আশঙ্কাটি এখানেই লুকিয়ে আছে। নিবন্ধনের ধারণাটি তাত্ত্বিকভাবে যতটা চমৎকার ও সুরম্য, প্রয়োগের ক্ষেত্রে ততটাই বিপজ্জনক ও নিবর্তনমূলক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সরকার বা অন্ধ আমলাতন্ত্র যদি এই নিবন্ধনের চাবিকাঠি নিজের হাতে নেয়, তবে তা ভিন্নমত দমনের সবচেয়ে বড় মারণাস্ত্রে পরিণত হবে। সরকারের সমালোচক, প্রগতিশীল ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের ‘নিবন্ধন’ বাতিল বা নবায়ন না করার ভয় দেখিয়ে গণমাধ্যমকে পুরোপুরি গৃহপালিত বা তোষামোদকারী সংস্থায় পরিণত করার আশঙ্কা প্রবল। সাংবাদিকতা কোনো লাইসেন্সধারী ব্যবসা বা ঠিকাদারি নয়। এটি মানুষের মৌলিক অধিকার, বিবেক ও মুক্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। নিবন্ধনের নামে যদি কঠোর সেন্সরশিপ বা আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য তৈরি করা হয়, তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এ দেশে চিরতরে হারিয়ে যাবে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আমাদের মুদ্রার অপর পিঠটিও দেখতে হবে। বাস্তবতার রূঢ় জমিনে দাঁড়িয়ে সত্য উচ্চারণ করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই তীব্র জোয়ারে, মোবাইল হাতে ঘুরে বেড়ানো এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ঢালাওভাবে ‘সাংবাদিক’ হিসেবে অস্বীকার করারও সুযোগ কিন্তু আমাদের নেই। আধুনিক বিশ্বে ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বা নাগরিক সাংবাদিকতা আজ একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। মূলধারার গণমাধ্যম যখন করপোরেট স্বার্থে কিংবা ভয়ের সংস্কৃতিতে মুখ বন্ধ রাখে, তখন অনেক সময় এই মোবাইল হাতে থাকা সাধারণ মানুষই টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অন্যায়, নিপীড়ন কিংবা প্রশাসনের দুর্নীতির চিত্র ক্যামেরাবন্দী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। তাদের এই তাৎক্ষণিক প্রচার অনেক বড় বড় অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করেছে। তাই তাদেরকে সমাজ থেকে একেবারে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সমাধান হলো- তাদেরকে কোনোভাবেই মূলধারার, প্রাতিষ্ঠানিক ‘সাংবাদিক’ হিসেবে স্বীকৃতি বা নিবন্ধন দেওয়া যাবে না। তাদের জন্য প্রয়োজন সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম এবং আলাদা নাম। তাদেরকে ‘নাগরিক তথ্যদাতা’, ‘সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’ বা ‘নাগরিক সংবাদকর্মী’ (Citizen Reporter) হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। রাষ্ট্র বা তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে তাদের জন্য আলাদা একটি নীতিমালার আওতাধীন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা ফোরাম থাকতে পারে। এর ফলে তারা তথ্যের অবাধ প্রবাহে অবদান রাখতে পারবে, কিন্তু মূলধারার পেশাদার সাংবাদিকতার পবিত্রতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সাথে তাদের গুলিয়ে ফেলে ‘সাংবাদিক’ তকমা হালাল করার আত্মঘাতী অপচেষ্টা বন্ধ হবে। বর্তমানের সবচেয়ে বড় সংকট হলো- বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, যে কোনো নিয়ন্ত্রণকারী বা তদারকি সংস্থাই শেষ পর্যন্ত নগ্ন রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির শিকার হয়। যদি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত বোর্ডের মাধ্যমে এই নিবন্ধন দেওয়া হয়, তবে প্রকৃত পেশাদার, সৎ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকরা ছিটকে পড়বেন। আর ক্ষমতাসীন দলের তল্পিবাহক, চাটুকার ও পাতিমাস্তানেরা রাতারাতি ‘স্বীকৃত সাংবাদিক’ বনে গিয়ে কার্ড ঝুলিয়ে দাপিয়ে বেড়াবে। প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন, ব্যাকরণহীন একঝাঁক মানুষকে যদি ¯্রফে সস্তা ভিউ ও জনপ্রিয়তার কারণে নিবন্ধনের আওতায় এনে মূলধারার সাংবাদিক হিসেবে ‘হালাল’ করা হয়- তবে তা হবে এ দেশের সাংবাদিকতার কফিনে শেষ পেরেক। এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের পথ কিন্তু সুদূর পরাহত নয়। রাষ্ট্রকে মনে রাখতে হবে, নিয়ন্ত্রণ বা দমন নয়, প্রয়োজন সুশৃঙ্খল, প্রাজ্ঞ ও আধুনিক সমন্বয়। যেমন- ১. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মিডিয়া কমিশন গঠন: সাংবাদিকদের নিবন্ধন বা তদারকির দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সরকারি আমলাদের অধীনে থাকা চলবে না। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী ও পুনর্গঠন করে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত ও স্বাধীন ‘জাতীয় মিডিয়া কমিশন’ গঠন করতে হবে। যেখানে বিচারকের আসনে থাকবেন প্রবীণ সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞানী ও আইনজ্ঞরা- কোনো দলীয় আমলা বা সক্রিয় রাজনীতিবিদ নয়। ২. শিক্ষাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা: মূলধারার সাংবাদিকতার নিবন্ধন পাওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং স্বীকৃত কোনো গণমাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করতে হবে। শুধু ‘মোবাইল, ক্যামেরা আর ইন্টারনেট’ থাকলেই কাউকে সাংবাদিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যাবে না। ৩. অপরাধের বিচার ও আচরণবিধি: কোনো নিবন্ধিত সংবাদকর্মী নৈতিক স্খলন বা অপরাধ করলে তার বিচার প্রেস কাউন্সিল বা প্রচলিত আইনেই হবে, কিন্তু তার জন্য ঢালাওভাবে পুরো সাংবাদিক সমাজকে লাইসেন্সিং-এর শিকলে বাঁধা যাবে না। একই সাথে মোজো বা নাগরিক সাংবাদিকদের প্ল্যাটফর্মকেও একটি সুনির্দিষ্ট সাইবার আচরণবিধির আওতায় আনতে হবে- যেন তারা তথ্যের নামে গুজব ছড়াতে না পারে। সাংবাদিকরা চিরকাল ক্ষমতার অন্ধ দম্ভ ও অশিক্ষার বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। আমাদেরও ভাবতে হবে- সাংবাদিকতা কোনো তৈলাক্ত বাঁশ নয় যে, যোগ্যতা ছাড়া যে কেউ এসে তা বেয়ে ওপরে উঠে যাবে। সাংবাদিকতা হলো তপ্ত অঙ্গার- যা বুকে ধারণ করতে প্রজ্ঞা, সততা, নিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন হয়। সাংবাদিকদের ডেটাবেজ বা নিবন্ধন অবশ্যই সময়ের দাবি, তবে তা যেন কোনোভাবেই মুক্ত গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার ‘কালো আইন’ বা স্বৈরাচারী ‘লাইসেন্স রাজ’-এ পরিণত না হয়। রাষ্ট্র, সমাজ এবং মূলধারার সাংবাদিক নেতৃত্বকে এখনই বসে এই আত্মঘাতী ‘মোজো’ সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে। একই সাথে মোজোদের একটি সুনির্দিষ্ট ও ভিন্ন আইডেন্টিটির ফ্রেমে বেঁধে, মূলধারার সাংবাদিকতার মর্যাদা অক্ষুণœ রেখে একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও দায়বদ্ধ গণমাধ্যমের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যথায়, ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমাদের আগামি প্রজন্মের কাছে আসামির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হবে- যার কোনো ক্ষমা নেই।
২২ জুলাই ২০২৬
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি
দৃষ্টি রিপোর্ট: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এমপি বলেছেন, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের মৌলিক অধিকার। সরকার জেলা হাসপাতালগুলোকে আরও কার্যকর, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব সেবাকেন্দ্রে পরিণত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শনিবার(১১ জুলাই) বিকালে টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন- হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সকল সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। চিকিৎসক সংকট, যন্ত্রপাতি, জনবল, টেকনিশিয়ানের অভাব, লিফটসহ অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। টাঙ্গাইল-১(মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন বলেন, জরুরি বিভাগে দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা- এসব বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। রোগীরা যেন হয়রানির শিকার না হন এবং কাক্সিক্ষত সেবা পান, সে বিষয়ে সবাইকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে। জনগণের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যেই আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জেনারেল হাসপাতালের সহ-সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল জেলার পাশাপাশি আশপাশের অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চিকিৎসাকেন্দ্র। তাই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে কাজ করছে। জনগণ যেন মানসম্মত ও হয়রানিমুক্ত চিকিৎসাসেবা পায়, সেটিই আমাদের সবার অঙ্গীকার। সভায় রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি, ওষুধ সরবরাহ, চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক(পদোন্নতিপ্রাপ্ত যুগ্ম-সচিব), পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার সহ ড্যাব এর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, স্বাস্থ্য বিভাগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১১ জুলাই ২০২৬
হাসপাতালে রোগীবান্ধব উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সভা
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। সভায় হাসপাতালের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট দূরীকরণ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান বৃদ্ধি, ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নয়ন, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। সভায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম-সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক শরীফা হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন মিঞা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, ‘টাঙ্গাইল জেলার মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে লক্ষ্যে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। হাসপাতালের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করা হবে। তবে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’ এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, ‘চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত মানবিক ও দায়িত্বপূর্ণ। মানুষ অসুস্থ হলে সর্বপ্রথম হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়। তাই চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সীমিত জনবল থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।’ এ সময় প্রতিমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
১০ জুলাই ২০২৬